সাবেক সচিব ও বিডা সদস্যের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা পাচারের মামলা
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মিম এবং তাদের ছেলে মোরসালিন ইসলাম সৌরদীপ। প্রাথমিক তদন্তে তাদের জালিয়াতি ও টাকা পাচারের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে কী পাওয়া গেছে?
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুটি শেল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একটি ইসরাত জাহান মিমের নামে মেঘমালা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং অন্যটি মোরসালিন ইসলাম সৌরদীপের নামে মেঘমালা এস্টেট লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ২০১২ সালে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির গুলশান শাখা থেকে জালিয়াতি ও জাল দলিলের মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা করে মোট ৪০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে আরও দেখা গেছে, ঋণের অর্থ প্রকৃত উৎস গোপন করতে একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর ও স্তরবিন্যাস করা হয়েছে।
ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
জাল কোম্পানির মাধ্যমে প্রাপ্ত ঋণের অর্থ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ধানমন্ডি শাখায় মোরসালিন ইসলাম সৌরদীপের একটি অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছিল। পরে, সেই অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির বনশ্রী শাখায় "ইউনিয়ন ব্যাংক (প্রস্তাবিত)" শিরোনামে অন্য একটি অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়েছে। সিআইডির তদন্তে আরও জানা গেছে, মোরসালিন ইসলাম সৌরদীপ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাপ্ত ঋণের অর্থ ব্যবহার করে ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির প্রতিষ্ঠাকালীন স্পনসর শেয়ার কিনেছেন।
সিআইডির বক্তব্য ও চলমান তদন্ত
সিআইডির বিশেষ সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, সিআইডির আর্থিক অপরাধ ইউনিট বর্তমানে এই মামলার তদন্ত করছে। তিনি বলেছেন, অপরাধের সম্পূর্ণ বিবরণ উন্মোচন এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তদন্ত ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, সংস্থাটি টাকা পাচার ও আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এই ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত চালিয়ে যাবে।
এই মামলাটি আর্থিক দুর্নীতি ও টাকা পাচারের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। সিআইডির তদন্তে আরও বিস্তারিত তথ্য উঠে আসতে পারে, যা দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
