বগুড়ায় চুরি হওয়া ২৭৩ মণ চাল উদ্ধার: পুলিশের অভিযানে ধরা পড়লো চোরাচালানের ঘটনা
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চুরি হওয়া ২৭৩ মণ চাল পুলিশের অভিযানে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ধুনটের চিকাশী ও গোসাইবাড়ি ইউনিয়নে পৃথক অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই বিপুল পরিমাণ চাল জব্দ করে। ঘটনাটি চোরাচালান ও আত্মগোপনে থাকা জড়িতদের দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে ট্রাকচালক হারুন মিয়ার নিখোঁজ হওয়ার পর মালিকপক্ষ আজাদ গ্রুপের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়।
চুরির ঘটনা ও পুলিশের তদন্ত
পুলিশ সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চালক হারুন মিয়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত থেকে ট্রাকে ২৬ কেজি ওজনের ৪২০ বস্তা ইন্ডিয়ান হোটাইট গোল্ড সিল্কি সোর্টেক্স চাল নিয়ে বগুড়ার দিকে রওনা দেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ট্রাকচালক হারুন মিয়া ট্রাকসহ নিখোঁজ হন বলে মালিকপক্ষ আজাদ গ্রুপ দাবি করে। চালকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে কোম্পানির লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন, কিন্তু সন্ধান না পেয়ে বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
এদিকে, গোপনে খবর পেয়ে সদর ও ধুনট পুলিশ মঙ্গলবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে। তারা ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের চড়চাপড়া গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে পোশাক শ্রমিক সুরুজ মিয়ার বাড়ির ঘর থেকে ৩৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করে। এছাড়া, উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব গুয়াডহুরী গ্রামের মৃত আবদুল মান্নান মণ্ডলের ছেলে মইনুল মণ্ডলের ঘর থেকে আরও ৮০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। মোট ৪২০ বস্তা চালের ওজন দাঁড়ায় ১০ হাজার ৯২০ কেজি বা ২৭৩ মণ।
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি মূলত সদর থানার এখতিয়ারের অধীন, এবং সদর থানা পুলিশের টিম এসে অভিযানে সহযোগিতা করেছে। বগুড়া সদর থানার এসআই মেহেদী হাসান বলেন, চুরি হওয়া চাল উদ্ধারের ঘটনায় ট্রাকচালক হারুন মিয়া ও অন্যান্য সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, কারণ তারা আত্মগোপনে রয়েছে।
উদ্ধার করা চালগুলো জব্দ করে বগুড়া পুলিশ লাইনসে রাখা হয়েছে, এবং চালের প্রকৃত মালিককে অবহিত করা হয়েছে। মালিক এলে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনা চোরাচালান ও অর্থনৈতিক অপরাধের দিকে আলোকপাত করে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বাড়িয়েছে।
