ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে বিদেশ পালানোর অভিযোগ
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক ব্যবসায়ীর তিনটি ট্রাক উদ্ধারের শর্তে ১০ লাখ টাকা নিয়ে ট্রাক ফেরত না দিয়েই শিপন আহমদ নামের সাবেক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা বিদেশে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল বাছিদ সাবেক ওই ছাত্রলীগ নেতা শিপন আহমদ ও তার সহযোগী ইকবাল মিয়া বনুর বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় জিডি করেছেন। এদিকে জিডি তুলে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
ভুক্তভোগী বাছিদ বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামের বাসিন্দা এবং বড়লেখা বাজারের আব্দুল বাছিদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী। তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সবজি ও ফল এনে বিক্রি করেন। ব্যবসায়িক কারণে সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কুড়োরপার এলাকার আজিজুল ইসলামের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তার মালিকানাধীন তিনটি ট্রাক সুনামগঞ্জে কাঁচামাল আনতে গেলে আজিজুল ইসলাম সেগুলো আটক করেন।
জিডিতে তিনি বলেন, শিপন আহমদ ও ইকবাল মিয়া বনু আজিজুল ইসলামের আত্মীয়। তাদের সহায়তায় আজিজুল ইসলাম বড়লেখা সেনা ক্যাম্পে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে সেনা ক্যাম্পে ডাকা হলে উভয় পক্ষের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা শেষে আজিজুল ইসলামকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে আব্দুল বাছিদ তা মেনে নেন। সেনা ক্যাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্রাকগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য শিপনের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হলে আব্দুল বাছিদ শিপনের কাছে ১০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ট্রাকগুলো ফেরত না দিয়ে শিপন দেরি করতে থাকেন। পরে তিনি জানতে পারেন, শিপন আহমদ ফ্রান্সে চলে গেছেন। এ বিষয়ে তিনি শিপনের ভাই ইকবাল মিয়া বনুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, টাকা তার কাছে নেই; তার ছোট ভাই শিপনের কাছে রয়েছে। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে শিপন আহমদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, দেশে ফিরে আজিজুলের নিকট থেকে ট্রাক উদ্ধার করে দেবেন, আর তা না পারলে গচ্ছিত টাকা ফেরত দেবেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য ও তদন্ত
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল বাছিদ জানান, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রাক উদ্ধার কিংবা টাকা ফেরত পাননি। তার আশঙ্কা, শিপন আহমদ ও তার ভাই ওই অর্থ আত্মসাতের পায়তারা করছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপন আহমদ ফ্রান্সে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অপর অভিযুক্ত তার ভাই ইকবাল মিয়া বনু যুগান্তরকে জানান, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না; তার বিরুদ্ধে থানায় যে জিডি হয়েছে, তাও জানেন না। বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন।



