চট্টগ্রামে পরিবহন খাতে ১৬ বছরে ১৪০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি
চট্টগ্রাম জেলার পরিবহন খাত থেকে একটি শক্তিশালী চক্র বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শাহজাহান নামে এক পরিবহন শ্রমিকের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় করা মামলায় এমন তথ্য সামনে এসেছে।
মামলার এজাহারে বিস্তারিত তথ্য
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর দায়ের করা পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির মামলার এজাহারে কীভাবে বিভিন্ন রুট থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে, কারা আদায় করেছেন—তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই ঘটনার পরও পুরোনো নিয়মেই চট্টগ্রামের পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিন্ডিকেটের কার্যক্রম
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের নামে শক্তিশালী সিন্ডিকেট বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস, টেম্পো, ট্যাক্সি, মিনিবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই সিন্ডিকেটে পরিবহন শ্রমিক নামধারী ২০০ জনের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা লাইন পরিচালনা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিক কল্যাণের নামে নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে। তবে চাঁদার এক কানাকড়িও শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাঁদাবাজির আর্থিক হিসাব
চট্টগ্রামে বাস ও মিনিবাসের রুট রয়েছে ১৮টি। এসব রুটের বৈধ ও অবৈধ গাড়ির সংখ্যা ১ হাজার ৯৪১টি। প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক ১৫০ টাকা করে ২ লাখ ৯১ হাজার ১৫০ টাকা চাঁদা উঠানো হয়। এই হিসাবে বছরে ১০ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা এবং ১৬ বছরে ১৬৭ কোটি ৭০ লাখ ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
একইভাবে, চট্টগ্রাম শহরে হিউম্যান হলারের রুট রয়েছে ১৮টি। এসব রুটে বৈধ ও অবৈধ গাড়ির সংখ্যা ১ হাজার ৮৬৬টি। এসব গাড়ি থেকে দৈনিক ২০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। বছরে ১ কোটি ১১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা এবং ১৬ বছরে উঠানো চাঁদার পরিমাণ ১৬৭ কোটি ৭০ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম শহরে চলাচলরত ম্যাক্সিমা গাড়ি রয়েছে ২ হাজার ১০০টি। প্রতিটি গাড়ি থেকে দৈনিক ৫০ টাকা হারে চাঁদা নেওয়া হয়। বছরে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং ১৬ বছরে এসব গাড়ি থেকে চাঁদা উঠানো হয় ৬০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
মালিক ফেডারেশনের বক্তব্য
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে পরিবহন খাতে চট্টগ্রামের কোথাও কোনো চাঁদা তোলা হয় না। তিনি বলেন, সাংগঠনিকভাবে লাইন চালানোর জন্য মালিকরা নির্ধারিত ফি দিয়ে থাকেন। পরিবহন সেক্টর নেতৃত্বশূন্য থাকলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
