বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান শনিবার রংপুর জেলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় জোটের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ এনেছেন। তিনি সরকারকে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানান।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় বিশ্বাসঘাতক হয়ো না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করো এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করো।’ তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে তার দল ও গণভোট উভয়কেই সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও শুধু প্রথম প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন।
সমাবেশটি তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, সীমান্ত হত্যা ও ঠেলাঠেলি বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আয়োজিত হয়।
জনগণের পক্ষে অঙ্গীকার
শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে জনগণের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা চলছে। ‘আমাদের গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে বিভ্রান্ত করতে নানা কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না। আমরা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও নড়ব না। আমি আবু সায়েদের রক্তে ভেজা রংপুরের মাটিতে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।’
যুবসমাজের ভূমিকা ও তিস্তা প্রকল্প
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের যুবসমাজ বৈষম্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায় এবং সংস্কারের জন্যই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আগে ‘জাগো বহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন শুরু করলেও বর্তমান বাজেটে তিস্তা প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখেনি।
‘আমরা ফাঁকা কথা চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ চাই। এই সরকার ব্যর্থ হলে, ১১-দলীয় জোট জনগণের সমর্থন ও ভোটে ভবিষ্যতে সরকার গঠন করে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে, ইনশাআল্লাহ,’ বলেন তিনি।
সীমান্ত উত্তেজনা ও সরকারের নীরবতা
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ভারত সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করছে, কিন্তু সরকার নীরব রয়েছে। ‘জনগণ কেবল প্রতিবাদই করছে না, তারা বিজিবি সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করছে। আমরা এই সাহসী মানুষদের সালাম জানাই,’ তিনি বলেন।
তিনি সরকারের নীরবতার সমালোচনা করে বলেন, সরকারকে অন্যের খুশি করার পরিবর্তে জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করতে হবে। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে আর দেরি না করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে জোটের অন্যান্য দলের নেতারাও বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।



