রাজনৈতিক সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর তীব্র প্রতিবাদ
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র এবং ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপি সমর্থকদের 'মব সৃষ্টি' ও হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ফ্যাসিবাদী আচরণের ইঙ্গিত
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চব্বিশের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার বাসার সামনে শুক্রবার সকালে মব সৃষ্টি ও হামলার ঘটনা বিএনপি সরকারের ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। তিনি উল্লেখ করেন, রাশেদ প্রধানের বক্তব্যে একটি শব্দ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির পরিবর্তে 'মব সৃষ্টি' নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার রাশেদ প্রধানের বাড়িতে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দাবি করেন এবং রাশেদ প্রধানের বাসা ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
তিনি আরও বলেন, যেকোনও রাজনৈতিক ঘটনার প্রতিবাদ রাজনৈতিকভাবে হওয়া উচিত। গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন ও আইনের শাসনের পরিপন্থি এ ধরনের মবের স্থান বাংলাদেশে আর গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে যেকোনও ধরনের দুর্বৃত্তায়নও বাংলাদেশের মানুষ রুখে দেবে।
মবের সময় পুলিশ প্রশাসনের নির্বিকার থাকাটাও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এতে করে নাগরিকের আইনের শাসন পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ব্যক্তিগত সচিবের ওপর হামলার নিন্দা
রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সচিব জনি নন্দীর ওপর হামলা ও তাকে আটক করার ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জনি নন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং এই ঘটনাকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পর বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হামলা, চাঁদাবাজি, হাসপাতালে মববাজিসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে নানা অপকৌশল নিয়েছে, যা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি। তিনি বিএনপিকে নেতাকর্মীদের উশৃঙ্খলতা নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর এই প্রতিবাদ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



