কুষ্টিয়ায় পীর হত্যায় জামায়াতের সম্পৃক্ততা অস্বীকার, মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ
পীর হত্যায় জামায়াতের সম্পৃক্ততা অস্বীকার, মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যাকাণ্ড: জামায়াতে ইসলামীর তীব্র প্রতিবাদ ও মিথ্যা সংবাদের নিন্দা

কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বেলাল উদ্দীন এবং সেক্রেটারি ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান এই প্রতিবাদ তুলে ধরেন।

মিথ্যা সংবাদের দাবি ও জামায়াতের অবস্থান

বিবৃতিতে জামায়াত নেতারা স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন যে, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘প্রথম আঘাত করে জামায়াত কর্মী’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তারা উল্লেখ করেন, ফিলিপনগর এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয় এবং এর সঙ্গে দলের কোনো নেতা বা কর্মীর সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।

জামায়াত নেতারা আরও বলেন, এটি একটি আকস্মিক ঘটনা যা স্থানীয় পর্যায়ে সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীকে এতে জড়ানো হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিবরণ ও বিতর্ক

উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাজা আহম্মেদকে প্রধান আসামি এবং রাজিব মিস্ত্রিকে দ্বিতীয় আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের স্থানীয় নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ এবং মাদ্রাসা শিক্ষক সিহাবের নামও উঠে এসেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে জামায়াত নেতাদের দাবি, মামলার এই বিবরণ প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা বলেন, ঘটনাটি এলাকাবাসীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে এবং সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক থাকতে পারে, কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে জামায়াতকে দায়ী করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।

অভিযুক্তের বক্তব্য ও জামায়াতের আহ্বান

অভিযুক্ত খাজা আহম্মেদ নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে জানান, ঘটনার দিন আইনি সমাধানের লক্ষ্যে বৈঠকের উদ্যোগ ছিল এবং হামলার খবর পেয়ে তিনি পীরের পরিবারকে সতর্কও করেছিলেন। মরদেহ হস্তান্তর পর্যন্ত তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।

জামায়াত নেতারা একইসঙ্গে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রত্যাহার ও সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের নাশকতামূলক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না এবং এই ঘটনায় দলের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অসত্য।

তারা শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান যেন সত্যতা যাচাই না করে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করা হয় এবং এই ঘটনার মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলটিকে লক্ষ্যবস্তু না বানানো হয়।