পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ
পাবনায় ছাত্রদল নেতা হত্যায় গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব ইমরান হোসেনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মী ও স্বজনেরা। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে বসে ছিলেন ইমরান হোসেন। তখন একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভের বিস্তারিত

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্যানার নিয়ে ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জিয়া সাইবার ফোর্সের ঈশ্বরদী পৌর শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা ফরিদ হোসেন প্রমুখ। নেতাদের অভিযোগ, হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। বরং নিহত ইমরানের পরিবারকে উল্টো নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

পূর্বের প্রতিবাদ ও পরিবারের বক্তব্য

একই দাবিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহত ইমরানের বাবা মো. ইমানুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে, তারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো আমাদের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পুলিশের বক্তব্য

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে মামলা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, কিন্তু আজ বিকেল পর্যন্ত তারা কোনো মামলা বা অভিযোগ দেয়নি। তিনি জানান, তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করছেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।