নাহিদ ইসলামের তীব্র অভিযোগ: সরকার স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সৌদি আরব থেকে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম বলেন, "নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে।" তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গুম ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিগত দিনে ইলিয়াস আলীসহ তাদের অনেক নেতাকর্মীই গুম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, "আমরা মনে করি, বিচারপতি নিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল।" গত ১৬ বছরে বিএনপির আন্দোলনে দেশের মানুষ সাড়া দেয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাদের সব কর্মসূচি ছিল দলীয় এবং তারা জনগণের আন্দোলন করতে পারেনি। তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের বাইরে থাকায় মানুষের আস্থা ছিল না।
সংস্কার প্রশ্নে সরকারের অজুহাত: নাহিদ ইসলামের সমালোচনা
নাহিদ ইসলাম বলেন, "কোনও কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না ক্ষমতাসীন দল। প্রথমত গণভোটের গণরায়কে তারা বাতিল করেছে। সংস্কার প্রশ্নে নতুন নতুন অজুহাত দিচ্ছে।" তিনি দাবি করেন, দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সংস্কারকে কেন্দ্র করে দেশে যা হচ্ছে, তা খুবই অপ্রত্যাশিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, "আসলে এই ধারণা ঐকমত্য কমিশন ও ৫ আগস্টের পর থেকেই শুরু হয়েছে। কারণ আমরা বারবার সংস্কারে জোর দিলেও তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসে যাওয়া।" তিনি আরও যোগ করেন, শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্যই গণঅভ্যুত্থান হয়নি, নেতৃত্বের আমূল সংস্কারের জন্যই ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে।
জাতীয় সংসদে নাটক এবং রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় সংসদে এক ধরনের নাটক হচ্ছে। সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়েছেন, অথচ এই রাষ্ট্রপতির থাকারই কথা না। তিনি বলেন, "আমরা মনে করি, সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে গণপরিষদ প্রয়োজন।"
তিনি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করতে রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি বলে উল্লেখ করেন। না হলে সরকার টিকবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে বলে তিনি দাবি করেন। এসব অধ্যাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলদের কাজ করতে হবে বলে তিনি মত দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, "নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেলে হবে না।" তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম কানুনের বেড়াজালে মূল আলোচনা থেকে সবাই সরে যাচ্ছে। এসব কারণে তারা রাজপথে নেমেছেন বলে তিনি জানান।
ওমরাহ থেকে ফিরে নেতাদের স্বাগত
শনিবার দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরে নাহিদ ইসলামকে স্বাগত জানান দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এর আগে রবিবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা ১৯ মিনিটে স্ত্রীকে নিয়ে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।



