জামায়াতে ইসলামীর ঘোষণা: সংসদে গতানুগতিক বিরোধীদল নয়
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদে গতানুগতিক বিরোধীদল হিসেবে কাজ করতে চায় না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দলটির আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “আমরা গতানুগতিক বিরোধীদল হিসেবে এ সংসদে কাজ করতে চাই না। আমরা চাই এ সংসদ হোক অর্থবহ। জনগণের সমস্ত চাওয়া পাওয়ার কেন্দ্র।”
ইফতার মাহফিলে দেওয়া বক্তব্য
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও উপস্থিত ছিলেন, যা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, “সরকারের সকল সংগত পদক্ষেপে আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু, আমাদের বিবেচনায় যদি দেখি সরকার কোনও অসঙ্গত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছেন, আমরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।”
গঠনমূলক ভূমিকার প্রতিশ্রুতি
তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে সরকার যদি তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে, তবে জাতি উপকৃত হবে এবং তারা কৃতজ্ঞ হবেন। তবে সরকার পরামর্শ না নিলে বিরোধীদলের প্রথাগত ভূমিকাই তারা পালন করবেন। “আমরা জাতির অধিকারের পক্ষে দাঁড়াবো,” বলেছেন শফিকুর রহমান।
তিনি একটি রূপক ব্যবহার করে ব্যাখ্যা করেন, “সরকারি দল সামনের চাকা হলে বিরোধী দল হবে পেছনের চাকা। কোনও বাহন কখনও এক চাকায় চলে না, দুটো চাকা মিনিমাম লাগবে।” এই উক্তির মাধ্যমে তিনি সংসদে সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
সংসদকে সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু করতে চান
জামায়াতে ইসলামীর আমির আরও বলেন, “আমরা পথচলায় সমন্বয় চাই। পারস্পরিক সম্মানের জায়গাটা চাই। মহান জাতীয় সংসদের এক সেকেন্ডও নষ্ট হোক, আমরা তা প্রত্যাশা করি না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকার সংসদকে আগামীতে এগিয়ে যাওয়ার বাহনে পরিণত করবে।
তিনি কালো আইন দূর করার বিষয়েও কথা বলেন: “জাতীয় সংসদ হবে দেশের সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। যে সমস্ত কালো আইন আমাদের সংবিধানে রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করতে আমরা সম্মিলিতভাবে প্রয়াস চালাবো।”
এই ঘোষণার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা আগামী দিনের সংসদীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
