নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের উপর চাপ, ইন্ডিয়া জোট নিয়ে বিতর্ক তীব্র
ভারতের কয়েকটি রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নানা দিক থেকে চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। এআই বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুব কংগ্রেস কর্মীদের খালি গায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় শাসক দল বিজেপির পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাও তাঁকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এছাড়া, বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'-এর নেতৃত্ব নিয়ে শরিক দলগুলোর মন্তব্য কংগ্রেসকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূল ও ডিএমকে-র অবস্থান
তৃণমূল কংগ্রেস কিছুদিন ধরে ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বের দাবি জানিয়ে আসছে, যা সম্প্রতি তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে সমর্থন জুগিয়েছে। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্টালিন কোয়েম্বাটুরে এক জনসভায় সরাসরি বলেন, বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তাঁর বাবা ও মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শুধু তামিলনাড়ু নয়, সারা দেশে বিজেপিবিরোধী আন্দোলন পরিচালনার ক্ষমতা এম কে স্টালিনের আছে।
উদয়নিধির এই মন্তব্যের একদিন আগে কলকাতায় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মণিশঙ্কর আয়ার ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি বলেন, এই জোটের নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দেওয়া উচিত, এবং রাহুল গান্ধীর উচিত এ বিষয়টি আঞ্চলিক দলগুলোর নেতাদের উপর ছেড়ে দেওয়া। মণিশঙ্কর আয়ারের বয়স ৮৪ বছর এবং তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় নন, কিন্তু তাঁর মন্তব্য কংগ্রেসকে বিব্রত করেছে।
তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে জোটের অনিশ্চয়তা
চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম ও পদুচেরির বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-র সঙ্গে জোটবদ্ধ হলেও কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় অংশগ্রহণের দাবি জানিয়েছে, যা ডিএমকে মেনে নিতে অনিচ্ছুক। ফলে, দুই দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা এখনো শুরু হয়নি, যা রাজ্যের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে অস্পষ্ট করে তুলেছে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ইন্ডিয়া জোটের শরিক হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে রাজি নয়। দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি স্পষ্ট করে বলেছেন, যে দলের বিধানসভায় একটি আসনও নেই, তাদের আসন ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। এতে জোটের ভবিষ্যৎ আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এআই সম্মেলনে বিক্ষোভ নিয়ে সমালোচনা
রাহুল গান্ধীর জন্য অতিরিক্ত সমস্যা তৈরি হয়েছে এআই নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুব কংগ্রেস কর্মীদের খালি গায়ে বিক্ষোভের ঘটনায়। বিজেপি প্রথম দিন থেকেই এই আচরণের নিন্দা জানিয়ে আসছে, এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কটাক্ষ করে বলেছেন, কংগ্রেসের নগ্নতা নতুন করে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
তৃণমূল কংগ্রেসও এই বিক্ষোভের সমালোচনা করে সরব হয়েছে। দলের নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক আসরে এ ধরনের আচরণ দুর্বল বিচারবুদ্ধির পরিচয় দেয় এবং জাতীয় অগ্রাধিকার নিয়ে ভুল বার্তা পাঠায়। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
মহারাষ্ট্রে শিবসেনার অবস্থান ও সামগ্রিক চাপ
মহারাষ্ট্রে উদ্ধবপন্থী শিবসেনা ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। দলীয় মুখপত্র 'সামনা'-তে সম্প্রতি একটি সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, জোটের অভিন্ন দিশা ও জোরালো নেতৃত্ব প্রয়োজন, এবং এ দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম কে স্টালিন বা অন্য কোনো যোগ্য নেতাকে নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব চাপের মুখে রয়েছেন, যখন ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ অস্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। তুলনামূলকভাবে, শাসক দল বিজেপি নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনেকটাই নিশ্চিন্ত অবস্থানে আছে।
