গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এক নারী শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় ছুটি না পেয়ে কাজ করতে গিয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পাঁচটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত লিজা বেগম (৩৭) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ওই কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ
সহকর্মী জেসমিন আক্তার অভিযোগ করেন, লিজা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার রাতে তিনি সুপারভাইজারের কাছে ছুটির আবেদন করেন। তবে ছুটি না পেয়ে কাজ চালিয়ে যান। রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহকর্মীরা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
অসুস্থতার কারণে বারবার ছুটির আবেদন করলেও তা মঞ্জুর করা হয়নি বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ ও ভাঙচুর
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা বরমী-মাওনা আঞ্চলিক সড়ক এবং শ্রীপুর মাওনা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় পাঁচটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া শ্রীপুর মাওনা সড়কে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ট্রিপল অ্যাপারেলস কারখানার ভেতরে থাকা কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, 'একজন নারী শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি ছুটির আবেদন করেছিলেন কিনা, সেই বিষয়ে আমার জানা নেই। ঘটনার পর কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।'
পুলিশের অবস্থান
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ কাজ করছে।'



