কুড়িগ্রামের উলিপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে (৫৩) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পৃথক অভিযানে আরও দুই নেতা গ্রেফতার
পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতিকেও গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তার এলাকার প্রকল্পের বিলের বিষয়ে খোঁজ নিতে আসেন। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
অপরদিকে, থানা পুলিশ বুধবার রাতে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন (৫৪) এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ধামশ্রেনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামকে (৬০) গ্রেফতার করে। দেলোয়ার হোসেন ডারারপার এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে এবং আমিনুল ইসলাম বাগছীর খামার এলাকার জহুর উদ্দিনের ছেলে।
দ্বিতীয়বার গ্রেফতার
উল্লেখ্য, ধামশ্রেনী ইউপি চেয়ারম্যান ২০২৫ সালের ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদে ঈদুল ফিতরের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়ে সভায় অংশগ্রহণ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এ নিয়ে তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে দ্বিতীয় বারের মতো গ্রেফতার হলেন।
মামলার বিবরণ
থানা পুলিশ জানায়, গত ৭ জুন ধামশ্রেণী ইউনিয়নের রানিগঞ্জ চৌমুহনী-অনন্তপুর সড়কের টেংরাকুড়া ব্রিজের উপর রফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও আমিনুল ইসলামসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে, বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জনগণের মনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে। এছাড়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ক্ষমতায় বসানো এবং বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিসহ তাদের সংগঠনের নিষিদ্ধের আদেশ বাতিলের লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার পরিকল্পনা করে। পরে ওই ঘটনায় পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় পলাতক আসামি রফিকুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পিআইও ও ওসির বক্তব্য
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খন্দকার মিজানুর রহমান ধামশ্রেনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকল্পের বিলের বিষয়ে খোঁজ নিতে এসেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত ইউপি চেয়ারম্যান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।



