চা রপ্তানিতে পঞ্চম থেকে আমদানিকারক দেশে পরিণত
একসময় বিশ্বে চা রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে থাকলেও বর্তমানে চা আমদানিকারক দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে চা আমদানি করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদে এ বিষয়টি তুলে ধরে চা উৎপাদন বাড়াতে সরকার কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেবে কি না, তা জানতে চান কুমিল্লা-১০ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত প্রশ্নে তিনি এ বিষয়ে জানতে চান।
অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি কমেছে
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় চা রফতানির পরিমাণ কমেছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে দেশে ৯৪ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর ১ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কেজি চা রফতানি করা হয়। একই বছরে মাত্র ০ দশমিক ০৫ মিলিয়ন কেজি চা আমদানি করা হয়েছে। দেশীয় চা শিল্প সুরক্ষার লক্ষ্যে চা আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
চা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের উদ্যোগ
মন্ত্রী আরও বলেন, চা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ১৭২টি চা-বাগানে ভর্তুকি মূল্যে রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে চা-আবাদ সম্প্রসারণে ক্ষুদ্র চা-চাষিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চা উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন এবং রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মকৌশল প্রণয়নের জন্য সরকার ২০২৬ সালের ৭ জুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



