এনসিপি নেতার অভিযোগ: 'ডিপ স্টেট' ২০২৯ সাল পর্যন্ত সরকার রাখার পরিকল্পনা করেছিল
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত একটি স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছিলো তথাকথিত 'ডিপ স্টেট'। বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
'ডিপ স্টেট'-এর প্রস্তাবের দাবি
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, "তখনকার সরকারের শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে 'ডিপ স্টেট' বলা হয়, তাদের কাছ থেকে নানা প্রস্তাব করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, 'শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটি আপনারা শেষ করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো'।" তিনি এই দাবির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গভীর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
তেল মজুত ও প্রশাসনিক সমালোচনা
আলোচনা সভায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও অভিযোগ করে বলেন, "অবশ্যই সরকারের ঘনিষ্ঠ কেউ তেল মজুত করছে।" তিনি জানান, গত সরকারের পারচেজিং কমিটিতে তিনি ছিলেন এবং তেলের দুই মাসের মজুত থাকার কথা থাকলেও এক মাসের মধ্যে এত দূরবস্থা দেখা দেওয়ায় তিনি বিস্মিত।
এছাড়াও, তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, "বিএনপি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোককে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ক্ষতি করেছে।" তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, "বিএনপি যাদের মেয়র পদে নির্বাচন করাবে, তাদের কি প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দিয়েছে? প্রশাসক পদে বসেই তারা যদি নির্বাচন করবেন, তাহলে আর বাকিরা নির্বাচন করে কি করবে?"
গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও রাজনৈতিক সহযোগিতা
আসিফ মাহমুদ গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশে বিএনপির সংশোধনী আনার প্রস্তাবেরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশে সংশোধনী আনার প্রস্তাব করার মাধ্যমে বিএনপি এটা প্রমাণ করছে যে, তারাও গুম করতে চায়।"
তিনি সরকারের প্রতি শর্ত আরোপ করে বলেন, "সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।" অন্যথায় জনগণের কাতারে এসে সঠিক গতিপথ বেছে নিতে হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, "বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি রাজনৈতিক পালাবদলে বিএনপি বেনিফিটেড হয়েছে। তবে প্রতিবারই তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। এবার রাজনৈতিক দলগুলো বিএনপিকে ভরসা করেছিল। কিন্তু তারা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গণভোটকে আদালতে নেওয়াই এর প্রমাণ।"
দলের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিনও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, যা রাজনৈতিক সংলাপে এনসিপির অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।



