বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক: ৫৫ বছরেও অর্জিত হয়নি মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, একটি স্বাধীন দেশেও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে লড়াইতে ৫৫ বছর পার করে ফেলেছে জাতি। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, এই দীর্ঘ সময় পরও একটি স্বাধীন জনগোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি বাংলাদেশ। তার মতে, যারা সরকারে গেছে, তারা প্রতিবারই বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র বাস্তবায়নে ব্যর্থতা
সাইফুল হক বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এগুলো ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় মূলনীতি। কিন্তু ৫৫ বছর পরও সেটা অর্জন করতে পারেনি দেশ। তিনি আরও যোগ করেন, উল্টো বলা যায়, তার বিপরীত পথে বাংলাদেশ হাঁটছে। যখনই যারা সরকারে গেছে, ক্ষমতায় যাওয়ার পরে তারা তাদের প্রতিশ্রুতির বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেছে।
কর্তৃত্ববাদী শাসনের তীব্র সমালোচনা
সাইফুল হক বলেন, গণতন্ত্রের পরিবর্তে কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং সাম্যের পরিবর্তে নিষ্ঠুর অমানবিক শোষণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি কর্তৃত্ববাদী শাসন ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন জনগণের বুকের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই শাসনব্যবস্থা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করেছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আশা
তিনি আরও বলেন, এবার বিএনপির নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তিনি বিশ্বাস করতে চান যে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক এবং বহুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাইফুল হক বলেন, তারেক রহমান যদি এই অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদী রাষ্ট্র ও সমাজের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন, তাহলে মনে করা হবে বাংলাদেশ সঠিক পথে হাঁটতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।
সাইফুল হকের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এই মন্তব্য করেন, যা দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। তার কথায়, ৫৫ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত না হওয়ায় জাতির জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।



