স্বাধীনতা দিবসে জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
স্বাধীনতা দিবসে জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা ও ঐক্যের আহ্বান

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। বুধবার (২৫ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মরণ ও শ্রদ্ধা

জিএম কাদের তার বার্তায় উল্লেখ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সেই সব দেশের প্রতি যারা আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছেন—তাদের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা রইল। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন, যা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য অসীম অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

একাত্তরের গৌরবোজ্জ্বল দিন

তিনি আরও বলেন, একাত্তরের উত্তাল দিনগুলো এখনো আমাদের অত্যাচারীর নির্মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহস যোগায়। মহান মুক্তিযুদ্ধ সকল বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে অনুপ্রেরণা দেয়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান

জিএম কাদের বলেন, স্বাধীনতা লাভের পরও দীর্ঘদিন বৈষম্য থেকে মুক্তি পায়নি বাঙালি জাতি। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোতে সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলা পদ্ধতি ও বিকেন্দ্রীকরণ

তিনি উপজেলা পদ্ধতি প্রচলনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধীনস্থ করেছিলেন, যার ফলে জবাবদিহিতা সরাসরি জনগণের হাতে ন্যস্ত হয়। এর মাধ্যমে প্রশাসন শুধু বিকেন্দ্রীকরণই হয়নি, ‘শাসন নয় সেবার জন্য প্রশাসন’ বাস্তবায়িত হয়েছিল। উপজেলাকে ‘উৎপাদন কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলা হয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়।

এছাড়াও, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হাইকোর্টকে বিকেন্দ্রীকরণ, ওষুধনীতি প্রচলন, কর্মমুখী শিক্ষানীতি ও স্বাস্থ্যনীতিসহ অনেক জনকল্যাণমূলক নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তার অসামান্য অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

জাতীয় ঐক্যের জরুরি আহ্বান

নতুন প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, এ মুহূর্তে জরুরি ‘জাতীয় ঐক্য’। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাই আন্দোলনের ফসল ঐক্যবদ্ধ জাতিকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠী স্বার্থে দ্বিধাবিভক্ত করা হয়েছে, যা পারস্পরিক ঘৃণা ও হানাহানির রাজনীতি সৃষ্টি করেছে।

বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশ

তিনি বলেন, আমেরিকা-ইসরাইলের যৌথ ইরান আক্রমণ এবং সারা বিশ্বে জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্যিক মন্দা বাংলাদেশের জন্য অপরিসীম সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করেছে। ঐক্যবদ্ধ জাতিই কেবল এ সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম হবে।

সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে, যাতে আগামী দিনের সমস্যা সমাধান সহজতর হয়। তবে এ কাজে সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে, যদি সরকার আন্তরিকভাবে তা কামনা করে।