প্রতারণা মামলায় ঢাকার ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতনের জামিন লাভ
প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে সাতক্ষীরার আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন ঢাকার আদাবর থানার শেখেরটেক এলাকার ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন (৩২)। বুধবার (২৫ মার্চ) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিলাস মন্ডল এই জামিনের আদেশ দেন, যা আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি অনুযায়ী একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার মাগুরা এলাকার মহাদেব চন্দ্র সাধুর কথিত ম্যানেজার মনোজ কুমার সরদার বাদী হয়ে ইসমাইল হোসেন রতনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাত মাস আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরির মামলা করা হয়েছে, অথচ ওই সময় থানায় কোনও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত করা হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মোটিভেশনাল স্পিকার আল মামুন রাসেল মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই মামলাটি সাত মাস আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে, কিন্তু ওই সময় থানায় কোনও জিডি পর্যন্ত করা হয়নি। পরবর্তীতে হঠাৎ করে মামলা করা হয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দেয়।’
আইনজীবীর বক্তব্য ও মামলার প্রকৃতি
আল মামুন রাসেল আরও বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরার এক গ্যাংস্টার রয়েছেন, যাকে মাফিয়া জগতের শিরোমণি বলা হয়- তিনি মহাদেব চন্দ্র সাধু। তার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের হত্যা মামলাসহ ৭০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। অনেক মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ক্ষতিগ্রস্তরা ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং কয়েকটি মামলায় তিনি কারাভোগও করেন। পরে জেল থেকে বের হয়ে যারা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই তিনি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। এমনকি এসব মামলায় পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘পরিবর্তিত বাংলাদেশে আমরা এমন মামলা আশা করিনি। সাত মাস আগের ঘটনা দেখিয়ে চুরির মামলায় থানার ওসি ও ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তারা তার বাড়ি থেকে মালামাল ও চেক চুরি করেছেন। অথচ ওই সময় মামলার বাদী থানায় কোনও জিডি পর্যন্ত করেননি। সাত মাস পর ভিন্ন কৌশলে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করা হয়েছে। এ ধরনের গায়েবি মামলা রুজু হবে-এটা আমরা কল্পনাও করিনি।’
আসামির বক্তব্য ও অতিরিক্ত অভিযোগ
মামলার আসামি ইসমাইল হোসেন রতন বলেন, ‘আমি ঢাকায় ব্যবসা করি। আমাকে হয়রানি করার জন্য সাতক্ষীরা থানায় আমার বিরুদ্ধে চুরির মামলা করেছেন সাতক্ষীরার মাগুরা এলাকার মহাদেব চন্দ্র সাধুর কথিত ম্যানেজার মনোজ কুমার সরদার। মহাদেব চন্দ্র সাধু আমাকে কয়েকবার হত্যার চেষ্টাও করেছেন।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার প্রতিষ্ঠান রাহাবার অ্যাগ্রো থেকে মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার সহযোগীরা প্রায় ১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার দেশি-বিদেশি কৃষি উপকরণ গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করেন এবং পাওনা টাকা চাইলে মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকি পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় চুরির মামলা করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মামলার বাদী মনোজ কুমার সরদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি আদালতেও আসেননি বলে জানা গেছে, যা মামলার প্রকৃতি সম্পর্কে আরও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এই ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়া ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



