দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল, দুর্ঘটনায় নিহত দুই
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে, ভিডিও ভাইরাল

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকা একটি বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। আজ বুধবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে, যেখানে বাসটি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। ভিডিওটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরছে।

যাত্রীদের করুণ অবস্থা

ঈদের ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন নুরুজ্জামান। তিনি ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ি থেকে কাছে হওয়ায় বুধবার দুপুরে কুমারখালী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে উঠেছিলেন তিনি। নুরুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে বাসটি ফেরির অপেক্ষায় ছিল। এই সময়ে তিনি চার বছরের মেয়ে নূরে জান্নাতকে পদ্মা নদী দেখাতে বাস থেকে নেমে পড়েন। বাসের ভেতর সাত মাসের ছেলে নাজিফ বিন জামানকে কোলে নিয়ে বসে ছিলেন তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার। কিছুক্ষণের মধ্যে বাসটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে মুহূর্তেই পানিতে পড়ে যায়।

নুরুজ্জামান বলেন, "চার বছরের মেয়েকে নিয়ে পদ্মাপাড়ে বসে আছি স্ত্রী-সন্তানের আশায়।" তিনি ঢাকার মিরপুরে একটি হাসপাতালে চাকরি করেন এবং এই দুর্ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার বিস্তারিত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে নিমজ্জিত বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। ঢাকার উদ্দেশে বাসটির ছাড়ার সময় মাত্র ছয়জন যাত্রী ছিলেন, দুটি শিশু বাদে। এরপর বিভিন্ন কাউন্টার থেকে একে একে যাত্রী ওঠানো হয়। কাউন্টারমাস্টার জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে বাসটিতে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, এবং উদ্ধারকাজ বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিদিন বেলা ২টা ২০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহনের এই বাসটি কুষ্টিয়া কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আজ বুধবারও বেলা ২টা ২০ মিনিটে কুমারখালী থেকে দুটি পরিবারের ৬টি টিকিটে দুটি শিশুসহ আটজনকে নিয়ে বাসটি ছেড়ে যায়।

অন্যান্য যাত্রীদের অবস্থা

কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তাঁর স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাঁদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭), আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩)। গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং কুমারখালী পৌর ভবন এলাকার মৃত বকুল বিশ্বাসের জামাতা। তিনি শ্বশুরবাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে পরিবার নিয়ে ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।

গিয়াসের শ্যালক রাকিব হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাঁর বড় ভাই ইমরুল হোসেন দৌলতদিয়ায় গেছেন। তিনি জানান, তাঁর দুলাভাই, বোন ও এক ভাগনে বেঁচে আছেন, কিন্তু আয়েশা বিনতে গিয়াস এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রীদের উদ্ধারে ডুবুরিদলের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার রাত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলছে, তবে বৃষ্টির কারণে কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সাহায্য করছে।

এই দুর্ঘটনা নৌ পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।