ওসির মোবাইলে ৩২ লাখ টাকা অনলাইন জুয়া: ডিএমপি তদন্তে বদলি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হকের মোবাইল ফোনে প্রাপ্ত ৩২ লাখ টাকা অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল বুধবার তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পর ডিএমপি এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করে এবং ইমাউল হককে থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডেভেলপমেন্ট বিভাগে বদলি করে।
তদন্ত ও বদলির প্রক্রিয়া
গতকাল ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ারের সই করা এক অফিস আদেশে এই বদলি কার্যকর করা হয়, যদিও আদেশে সরাসরি কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে, ২০ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে, ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে (০১৭১২-২৫৪***) অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা গেছে, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৪৫ দিনে তার মোবাইলে ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে, যার বেশির ভাগই অনলাইন জুয়ায় ব্যয় হয়েছে।
টাকা প্রেরণের উৎস ও ব্যবহার
ডিএমপির তদন্তে উঠে এসেছে যে, সাতটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ওসির মোবাইলে এই অর্থ পাঠানো হয়। উল্লেখযোগ্য উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি বিকাশ-নগদের দোকান (রহিমের দোকান) থেকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা
- কনস্টেবল আমজাদের মোবাইল নম্বর থেকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা
- কনস্টেবল সাদ্দামের মোবাইল নম্বর থেকে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা
- নাসিমের (বাড়িওয়ালা) নম্বর থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা
- মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা
- খালেক নামের এক ব্যক্তি থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা
- লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি নম্বর থেকে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা
- মিজানুর নামের আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা
পাশাপাশি, ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তে আরো প্রকাশ পেয়েছে যে, ওসি তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রাপ্ত এই টাকা এপিআই সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ায় খরচ করেছেন।
ওসির প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী অবস্থা
অভিযোগের বিষয়ে ওসি ইমাউল হক জানান, তার অনলাইন জুয়ার বিষয়ে কোনো ধারণা নেই এবং তিনি দাবি করেন যে, তার মোবাইল হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আরো উল্লেখ করেন যে, এ ঘটনায় তিনি ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়ারি (জিডি) করেছেন। তবে, ডিএমপির তদন্ত ও নিশ্চিতকরণের পর তাকে বদলি করা হয়েছে, যা পুলিশ প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নির্দেশ করে।
এই ঘটনা অনলাইন জুয়া ও পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, এবং ডিএমপি আরো গভীর তদন্ত চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



