৫ বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি নারীপ্রধান পরিবারে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী এবং তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার এই কর্মসূচি চালু করেছে।
ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তার সহধর্মিণী ড. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন এবং মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার সরকার পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে যে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে, সেই ৪ কোটি পরিবারে যারা নারী প্রধান, তাদের কাছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সকলের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।"
কার্যক্রমের বর্তমান অগ্রগতি
তারেক রহমান জানান, সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩৭ হাজার নারী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। বিশেষ করে কড়াইল, ভাসানটেক এবং সাততলা এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে আজকের দিনে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
সরকারের জবাবদিহি ও প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। তিনি বলেন, নির্বাচনে ফ্যামিলি কার্ডের ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল এবং এক মাস পূরণের আগেই তা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, "আজকের দিনটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন। কারণ, আপনাদের প্রত্যক্ষ ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা জবাবদিহি করতে বাধ্য।"
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পথ সুগম করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। তাই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
