বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট, আমদানি অর্ধেকে নেমেছে
সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট, আমদানি অর্ধেকে নেমেছে

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ক্রমেই বাড়ছে। আগে যেখানে খুচরা দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো থাকতো বোতলজাত সয়াবিন তেল, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি বোতল দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার পর্যায়ে অন্যান্য পণ্য গ্রহণের শর্তে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে খোলা তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে।

আমদানি কমেছে অর্ধেক

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সয়াবিন তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাম অয়েল আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন, যা এ বছর একই সময়ে ৪ লাখ ৫৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে সয়াবিন তেলের ঘাটতি পাম অয়েল দিয়ে পূরণ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিন তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১ হাজার ১৫৪ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ১ হাজার ২৮২ ডলার এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ ডলারে পৌঁছায়। ফলে আমদানিকারকদের ব্যয় আরও বেড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবসায়ীদের দাবি দাম সমন্বয়

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও দেশে তা সমন্বয়ের জন্য সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় আমদানিতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কমে গেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) উপ-মহাব্যবস্থাপক তসলিম শাহরিয়ার বলেন, 'এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে পারেন।' অন্যদিকে টি কে গ্রুপের পরিচালক মো. শফিউল আতহার তসলিম বলেন, 'আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেশি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কী দামে সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে, তা দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।'

বাজারে বর্তমান দাম

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮২ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েল ১৬১ থেকে ১৬৮ টাকা এবং সুপার পাম ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে বাস্তবে আরও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

ক্যাবের উদ্বেগ

ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলেছে, বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরবরাহ সংকট তৈরি করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারের অবস্থান

সম্প্রতি সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বোতলজাত তেলের সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও খোলা তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার বিষয়টি সরকার নজরে রেখেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বাজারকে জিম্মি করতে পারবে না।