মেহেরপুরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফের চাল বিতরণ এবং প্যানেল চেয়ারম্যান পদ নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধেছে। এই সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুসহ কমপক্ষে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন কালু, স্থানীয় নেতা খাইরুল ইসলাম ও রাসেল আহমেদ উল্লেখযোগ্য। তাদেরকে প্রাথমিকভাবে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাশ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংঘর্ষের পটভূমি ও উভয় পক্ষের বক্তব্য
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উত্তেজনা শুরু হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুর সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে কড়ইগাছি মোড়ে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের লোকজন রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিএনপির উপজেলা কমিটির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুর গ্রুপের দাবি, সারগিদুল ইসলাম অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন এবং গরিবদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চালসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তার নিজের লোকজনের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করছেন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতেই তারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হয়েছিলেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম তার পক্ষ থেকে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি আইনানুগভাবে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির অন্য গ্রুপ গতকাল থেকেই ভিজিএফের চাল লুট করার হুমকি দিচ্ছিল, তাই তিনি ও তার লোকজন নিরাপত্তার জন্য পরিষদের ভেতরে অবস্থান নিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপুকে সরিয়ে দিয়ে ওয়ার্ড সদস্য সারগিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরে বিভক্তি তৈরি হয়, যা আজকের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং ভিজিএফের চাল বিতরণের মতো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করছেন।
