সাভারে 'পিস্তল বাদশা' নামে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার
সাভারে আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মো. নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে 'পিস্তল বাদশা'কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি অভিযানে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডেল্টার মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিচয়
নাঈম ইসলাম বাদশা (২২) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার কুনাউড় গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বাদশা সাভার উপজেলার তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করতেন। সে সময় তিনি সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাকে উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিং ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিতে দেখা যেত।
অভিযোগ ও সহিংসতার ইতিহাস
স্থানীয়দের দাবি, মনির পালোয়ানের প্রভাবকে পুঁজি করে নাঈম ইসলাম বাদশা বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলম রাজীব ও পৌর যুবলীগের সভাপতি মনির পালোয়ানের পক্ষে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গোপন জীবন
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মনজুরুল আলম রাজীব ও মনির পালোয়ান ভারতে পলাতক রয়েছেন। তবে তাদের অনুপস্থিতিতেও এলাকায় নিজের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বাদশা। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ৫ আগস্টের পর হেমায়েতপুর এলাকা ছেড়ে সাভারের রাজাশন এলাকায় এসে গোপনে বসবাস শুরু করেন তিনি। সেখানে অবস্থান করে রাজনৈতিক খোলস পালটে বিএনপি কর্মী পরিচয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালান।
সাম্প্রতিক ঘটনা ও গ্রেফতার
এর মধ্যে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি রাতে সাভার পৌরসভার দক্ষিণ রাজাশন এলাকায় ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। ওই ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেফতারে তৎপরতা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুর মোহাম্মদ জানান, বাদশার বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা থাকায় তাকে আদালতে চালান করে দেওয়া হয়েছে।
