রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ধ্বংসাবশেষে টয়লেট ব্যানার রহস্যজনকভাবে উধাও
রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে টয়লেট ব্যানার উধাও

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ধ্বংসাবশেষে টয়লেট ব্যানার রহস্যজনকভাবে উধাও

রাজশাহী মহানগরের কুমারপাড়া এলাকায় গুঁড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ধ্বংসাবশেষে টানানো 'মুজিব পাবলিক টয়লেট' লেখা ব্যানারটি রাতের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। তবে কে বা কারা এই ব্যানারটি সরিয়ে নিয়েছে, তা এখনো একটি রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে সেখানে প্রতীকীভাবে একটি 'পাবলিক টয়লেট' উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়ে এই ব্যানারটি টানানো হয়েছিল।

ব্যানার স্থাপন ও রাতারাতি অদৃশ্য হওয়ার ঘটনা

সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাঁশের খুঁটি পুঁতে ব্যানারটি স্থাপন করেন, যেখানে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের রাজশাহী জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. নাহিদুল ইসলাম। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, রাতের মধ্যেই ব্যানারটি আর সেখানে দেখা যায়নি। এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, অনেকেই মনে করছেন যে সমালোচনার মুখেই ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আহ্বায়কের বক্তব্য ও পরিকল্পনা

তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'আমরা ব্যানার সরাইনি। কে বা কারা সরিয়েছে তা জানি না। বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার বিষয়টি ভাবছি।' তিনি আরও জানান, সেখানে প্রতীকীভাবে পাবলিক টয়লেটের ঘোষণা দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগামী রোববার বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পূর্ববর্তী ঘটনা ও পটভূমি

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একই স্থানে 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী মহানগর শাখা কার্যালয় শুভ উদ্বোধন করা হলো' লেখা একটি ব্যানার টানানো হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কয়েক দফায় বুলডোজার দিয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয়টি সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে ভাঙা ভবনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে, যা এই সমস্ত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি বিতর্কিত ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে, এবং এটি নিয়ে চলমান তদন্ত ও আলোচনা সম্ভাব্য ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করছে।