ওসির সামনেই যুবদল নেতার চাঁদা দাবি, বহিষ্কার ও গ্রেফতারের ঘটনা নাটোরে
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় একটি হাট-বাজারের ইজারা নিয়ে উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে যুবদলের এক নেতা ইজারাদারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনা গুরুদাসপুর থানার ওসির সামনেই প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের সামনে এই চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপু একই ইউনিয়নের মৎস্যজীবী দলের সাবেক সহ-সভাপতি।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের নিচতলায় রাজা গালমন্দ করতে করতে তপুর দিকে তেড়ে এসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিজ্জামানের পাশে ইজারাদার তপুসহ ৮ থেকে ১০ জন দাঁড়িয়ে ছিলেন, এবং উপজেলা পরিষদের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে রাজা হাত উঁচিয়ে তপুর দিকে তেড়ে গিয়ে হুমকি দেন যে, টাকা না দিলে তপুর হাত-পা ভেঙে মাটিতে শুইয়ে দেবেন।
প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা
ঘটনার পর ওসি শফিজ্জামান সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "রোজার দিন, আপনারা এখন চলে যান।" তবে, থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। শুক্রবার রাতে নৈতিক স্খলনের কারণে জেলা যুবদল রাজাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের তুলাধোনা বাজার থেকে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রকাশ্যে হুমকি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবির ঘটনায় রাজাকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে নাটোর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ইজারা প্রক্রিয়া ও পক্ষগুলোর বক্তব্য
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে গুরুদাসপুরের ছয়টি ইউনিয়নের ১৩টি হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স কক্ষে দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়। তপু অভিযোগ করে বলেন, তিনি ২১ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দরে তুলোধুনা হাটটির ইজারা পেয়েছেন, কিন্তু দরপত্রে অংশ নেওয়া যুবদল নেতা রাজা ইজারা না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং ওসির সামনেই তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
অন্যদিকে, রাজা অভিযোগ অস্বীকার করে একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, তপুর কাছ থেকে ব্যবসায়িক লেনদেনের ৫ লাখ টাকা পাওনা আছে তার, এবং ইজারা শেষে তিনি প্রকাশ্যে ওই টাকা চেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, "রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে।"
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকাশ্যে এই ধরনের চাঁদা দাবি ও হুমকি প্রদর্শন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক।
