রাজশাহীতে বিএনপি কর্মীদের ব্যানার পোড়ানোর ঘটনায় উত্তেজনা, ভাঙা আওয়ামী লীগ অফিসে চাঞ্চল্য
রাজশাহীতে বিএনপি কর্মীদের ব্যানার পোড়ানো, ভাঙা আওয়ামী লীগ অফিসে উত্তেজনা

রাজশাহীতে ভাঙা আওয়ামী লীগ অফিসে ব্যানার পোড়ানোর ঘটনায় উত্তেজনা

রাজশাহী মহানগরীতে একটি ভাঙা ও গুঁড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে নগরীর কুমারপাড়ায় অবস্থিত ওই অফিসের ধ্বংসস্তূপের সামনে টাঙানো একটি 'উদ্বোধনী ব্যানার' বিএনপির নেতাকর্মীরা আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শনিবার দুপুরে সেখানে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির মহানগর কমিটির বোয়ালিয়া পশ্চিমের সভাপতি শামসুল আলম মিলু। উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রথমে ব্যানারটি নামিয়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলেন এবং পরে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। শামসুল আলম মিলু জানান, অস্তিত্বহীন আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে উদ্বোধনী ব্যানার টাঙানোর খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কারা ব্যানারটি লাগিয়েছে তা শনাক্তের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কয়েকজন ব্যানার নিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেলেও কারও চেহারা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

পুলিশের বক্তব্য ও প্রাথমিক তদন্ত

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে রাতের আঁধারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ব্যানারটি টাঙিয়েছিল। শনিবার দুপুরে সেটি পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা তিনি শুনেছেন, তবে কারা ব্যানারটি লাগিয়েছে বা কারা পুড়িয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ এখন বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

পটভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে বিক্ষুব্ধরা বুলডোজার দিয়ে এই আওয়ামী লীগ অফিসটি ভেঙে ফেলেন। এরপর গত বছর ডিসেম্বরে শরীফ ওসমান হাদীকে হত্যার পর পরিত্যক্ত ভবনটি সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে সেখানে কে বা কারা একটি ব্যানার টাঙিয়ে যায়, যা পরদিন বিএনপি কর্মীদের দ্বারা পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহীতে বিরল নয়, কিন্তু ব্যানার পোড়ানোর মাধ্যমে প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। তারা শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।