বগুড়ার ধুনটে বিএনপি নেতা ও পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
ধুনটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মানববন্ধনে গ্রেপ্তারের দাবি

বগুড়ার ধুনটে বিএনপি নেতা ও পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিএনপির এক নেতা, তাঁর স্ত্রী এবং ছেলের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা শনিবার বেলা তিনটার দিকে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করেছেন।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ

উপজেলার উল্লাপাড়া এলাকার নাছিমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ ধুনট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগে ধুনট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু মুনছুর আহম্মেদ ওরফে পাশা, তাঁর স্ত্রী উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শারমীন সুলতানা এবং ছেলে ফায়সাল আহম্মেদ ওরফে আকাশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাছিমা খাতুনের স্বামী চপল মাহমুদ কাজ শেষে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত অভিযুক্তরা তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

চপল মাহমুদ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় নাছিমা খাতুন থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেছেন।

মানববন্ধন ও সমাবেশের চিত্র

শনিবার বেলা তিনটার দিকে ধুনট উপজেলা সদরের হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই সমাবেশ চলাকালীন ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে, যা স্থানীয় যোগাযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, "এই ধরনের চাঁদা দাবির ঘটনা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

বিএনপি নেতার প্রতিক্রিয়া

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু মুনছুর আহম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, "চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি। আসলে ক্যারম খেলাকে কেন্দ্র করে আমার ছেলের সঙ্গে চপল মাহমুদের বাগ্বিতণ্ডা এবং হাতাহাতি হয়েছে।" তিনি আরও দাবি করেন যে এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কতিপয় নেতার ইন্ধনে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য চক্রান্ত করে চাঁদাদাবির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা এই ধরনের চাঁদা দাবির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত করছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ড ও নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন যে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা নিরূপণ করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।