জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সিঙ্গাপুর ফেরত দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া দুই যুবক হলেন সাহেদুল ইসলাম এবং রিশাদ তায়ানী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারের ঘটনা ও পটভূমি
সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে সেখানকার পুলিশ তাদের আটক করে। বুধবার বিমানযোগে সিঙ্গাপুর পুলিশ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের কর্তব্যরত অফিসের কাছে তাদের প্রেরণ করে। সিটিটিসি কর্তৃপক্ষের বিমানবন্দর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বিমানবন্দর থানার এসআই আশরাফুল আলম তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সিঙ্গাপুর অবস্থানকালে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল মর্মে জানায়। তারা যেকোনও সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা করতে পারে এমন সম্ভাবনা রয়েছে।
রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা
আবেদনে আরও বলা হয়, তারা বাংলাদেশের কোনও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কিনা, কোনও ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে কিনা, জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের যোগানদাতা কে বা কারা তা জানা, বাংলাদেশে তাদের অস্তিত্ব আছে কিনা এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কিনা তা জানার জন্য আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
প্রসিকিউটর শামছুদ্দোহা সুমন আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক সিঙ্গাপুরে কাজ করে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে এবং তারা কেন এমন কর্মকাণ্ডের জড়িত হয়েছে সেসব তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমিকরা কাজ করে। এমন ঘটনায় এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। এজন্য তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করা প্রয়োজন।”
আদালতের কার্যক্রম
আসামিদের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না। এসময় বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক যুবকের নাম জানতে চান। রিশাদ তায়ানী মর্মে আদালতকে জানান তিনি। তাদের কেন সিঙ্গাপুর পুলিশ গ্রেফতার করেছে জানতে চান বিচারক। তখন রিশাদ বলেন, “ফারাবী নামের এক লোককে নিয়ে ফেসবুকে লিখছিলেন এই কারণে।” ফারাবী কোন দেশের নাগরিক বিচারক জানতে চাইলে রিশাদ বলেন, “তিনি বাংলাদেশের হেফাজত ইসলামের এক নেতা। তাকে বাংলাদেশের কারাগারে রাখা হয়েছিল। এখন তিনি কারামুক্ত।” ২০২৩ সালে ফেইসবুকে এই পোস্ট করেছিলেন বলে বিচারককে জানান তিনি।
তখন বিচারক বলেন, “আপনারা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আপনাদের কি দরকার এসব নিয়ে কথা বলা।” পরে আদালত দুই জনকে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।



