রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে ভবিষ্যতে শুধু সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে আন্তঃজেলা বাস পর্যায়ক্রমে কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন ও উচ্ছেদ অভিযান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে গুলিস্তানের বাস টার্মিনালও নদীর ওপারে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
টার্মিনালের বর্তমান অবস্থা ও পরিকল্পনা
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সায়েদাবাদ একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়নি। যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র হওয়ার পরিবর্তে এটি বাসের গ্যারেজ ও ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। অথচ একটি টার্মিনালের মূল উদ্দেশ্য হলো দূরপাল্লার যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধা নিশ্চিত করা। তিনি জানান, টার্মিনাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত প্রতিটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ একটি বা দুটি বাস টার্মিনালের ভেতরে অপেক্ষমাণ রাখতে পারবে। এর বেশি বাস রাখা যাবে না।
প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চালুর পরিকল্পনা
যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করতে টার্মিনালে তিনটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অনুরোধে চলতি মাসের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হবে না। আবদুস সালাম বলেন, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে এবং তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ ও হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থান
তিনি আরও জানান, টার্মিনালের বিভিন্ন সুবিধা উন্নত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও সুবিধা বাড়ানো হবে এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালের ভেতরে থাকা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আগে সব দোকান সরিয়ে নিতে হবে। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নিয়মের মধ্যে হকার বা ভেন্ডরদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত অভিযানে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনাল পুরোপুরি শৃঙ্খলায় না এলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
পরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা
আবদুস সালাম বলেন, এবার আর অবৈধ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। সায়েদাবাদ টার্মিনালকে পুরোপুরি শৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সায়েদাবাদকে শুধু সিটি বাসের টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার, আন্তঃজেলা বাস কাঁচপুরে স্থানান্তর এবং গুলিস্তানের বাস টার্মিনাল নদীর ওপারে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।



