ভূমিধসে বারবার প্রাণহানির ঘটনা রোধে পাহাড়ের পাদদেশ ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে তাদের আবাসন প্রদান করবে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সংসদে বিবৃতি ও আহ্বান
সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম বৈঠকে রুল ৩০০-এর অধীনে বিবৃতি দেন মন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সংসদ সদস্যদের সরকারের এই উদ্যোগে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের পাহাড়ি জেলাগুলোতে ভূমিধসে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে পাঁচজন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙ্গামাটিতে একজন এবং বান্দরবানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ বিতরণ
জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে বিপুল সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, শিশু খাদ্য এবং দিনে তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা
মন্ত্রী বলেন, সরকার ৭ জুলাই প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় জিআর নগদ ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে: চট্টগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা করে।
অতিরিক্ত খাদ্য সহায়তার মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারের জন্য ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের সচিব মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ত্রাণ সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।



