ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের ছয়টি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সিলেট, চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বা বিদ্যমান বন্যা আরও বাড়তে পারে।
ছয় নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে
এফএফডব্লিউসি-র সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মনু, খোয়াই, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি ইতিমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী দুই দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। একই ধরনের আবহাওয়া আশা করা হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও।
বান্দরবান ও চট্টগ্রামে বন্যার শঙ্কা
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যা হতে পারে। ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি নদীর পানি বেড়েছে, যা কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার কারণ হতে পারে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চল অস্থায়ীভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের নিম্নাঞ্চলে কয়েকটি নদীর পানি বাড়ার কারণে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ আগামী তিন দিনে নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি
তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে। ধarla ও দুধকুমার নদীর পানিও বাড়তে পারে, যার ফলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল অস্থায়ীভাবে প্লাবিত হতে পারে।



