ভূমিধসে বারবার প্রাণহানির ঘটনা রোধে পাহাড়ের পাদদেশ ও অন্যান্য ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আবাসন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) জাতীয় সংসদে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সংসদে বিবৃতি ও পুনর্বাসন উদ্যোগ
সংসদের ১৩তম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম বৈঠকে নিয়ম ৩০০-এর অধীনে বিবৃতি দেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সংসদ সদস্যদের পুনর্বাসন উদ্যোগে সহায়তার আহ্বান জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ভূমিধসে হতাহত ও ত্রাণ কার্যক্রম
মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে দেশের পার্বত্য জেলায় ভূমিধসে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫, কক্সবাজারে ১৯, রাঙ্গামাটিতে ১ এবং বান্দরবানে ৫ জন নিহত হন। জরুরি প্রতিক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে বিপুল সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন সুবিধা, শিশুখাদ্য ও তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত বরাদ্দ ও ত্রাণ সহায়তা
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার ৭ জুলাই প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় জিআর নগদ ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে: চট্টগ্রামের জন্য ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা করে। অতিরিক্ত খাদ্য সহায়তার মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারের জন্য ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের সচিব মাঠপর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা তদারকি করছেন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
সতর্কতা ও প্রচারণা
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রী বলেন, 'আমরা চাই ভবিষ্যতে ভূমিধসে আর কেউ প্রাণ না হারায়।'



