যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রায় আট বছর আগে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শাহানুর আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। দণ্ডের পাশাপাশি জাহাঙ্গীর আলমকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।

রায়ের বিবরণ

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। রায় শেষে আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঘটনার বিবরণ

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, শাহানুর আক্তারের প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ঘটনার প্রায় ১১-১২ বছর আগে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। তারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দিনমজুরির পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করতেন। নিয়মিত নেশা করতেন এবং স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করে দিলে তারা রাতের খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে শাহানুরের মেয়ে মাকে ডাকতে গিয়ে দেখতে পায়, কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। সে তার ভাইকে ডাকে। পরে দুই জন দরজা খুলে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এ সময় জাহাঙ্গীরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া

এ ঘটনায় শাহানুরের ভাই জামাল উদ্দিন ২০ নভেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. রফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৪ জুন জাহাঙ্গীরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ছয় জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।