রংপুরের নিউ ইঞ্জিনিয়ারিং পাড়া এলাকায় অবস্থিত সরকারি মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়মিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, হাসপাতালটি সপ্তাহে মাত্র তিন দিন এবং কয়েক ঘণ্টা খোলা থাকে, যদিও এটি গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের জন্য ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার কথা।
হাসপাতালের পরিদর্শনে যা দেখা গেছে
মঙ্গলবার হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগে কোনো কর্মী নেই। কক্ষে আলো, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার চললেও ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীদের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্যাথলজি ও ফার্মেসি বিভাগ দুপুর ১২:৪৫টায় কর্মীশূন্য ছিল।
রোগীদের অভিযোগ
আলমনগরের বাসিন্দা মোছলেমা বেগম বলেন, “আগের দিন এসেছিলাম, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আসতে বলা হয়। এখন দুপুর হয়ে গেছে, কোনো ডাক্তার বা নার্স নেই। সকাল থেকে অপেক্ষা করছি।” সিও বাজার এলাকার অঞ্জুমান আরা বেগম জানান, গত কয়েক মাস ধরে তিনি হাসপাতালে সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “এই হাসপাতাল গর্ভকালীন সেবা থেকে প্রসব, নরমাল ডেলিভারি ও অপারেশন সবই দেওয়ার কথা। কিন্তু গত দুই-তিন মাস ধরে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছি না।”
কর্মচারীদের বক্তব্য
দুপুর ১২:১০টায় তিনজন কর্মচারী এসে দাবি করেন, সপ্তাহে তিন দিন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় এবং কিছু বিভাগ শুধু ওই দিনগুলোতে খোলে। তবে তারা কোনো লিখিত নির্দেশ দেখাতে পারেননি। মেডিকেল অফিসার ডা. মারুফা বেগম দুপুর ১২:৩০টায় এসে চেম্বারে বসেন। তিনি জানান, আগে অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন, তবে হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রংপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক শিহাব উদ্দিন বলেন, “সব বিভাগ নিয়মিত খোলা থাকার কথা। নরমাল ডেলিভারি ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যাবে, সিজার অপারেশনসহ অন্যান্য সেবাও দেওয়া হবে। জরুরি সেবা বন্ধ রাখা যাবে না।” তিনি অভিযোগ তদন্ত করে অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
রোগীদের দাবি
হাসপাতালের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে জানান, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা কাছেই থাকা সত্ত্বেও খুব কমই হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। রোগী ও তাদের স্বজনরা কর্তৃপক্ষের কাছে ডাক্তার ও কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং তদারকি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য—মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা—প্রদান করতে পারে।



