ইসরায়েলের অস্তিত্ব অস্বীকার করলে জার্মানিতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব
ইসরায়েলের অস্তিত্ব অস্বীকারে জার্মানিতে কারাদণ্ডের প্রস্তাব

জার্মানির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ বুন্দেসরাত শুক্রবার একটি বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার অধীনে ইসরায়েলের অস্তিত্ব অস্বীকার বা দেশটি বিলুপ্তির আহ্বান জানালে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। হেস রাজ্য কর্তৃক উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি গ্রীষ্মকালীন অবকাশের পর নিম্নকক্ষ বুন্দেসতাগে আলোচনার জন্য তোলা হবে।

প্রস্তাবিত আইনের বিস্তারিত

খসড়া আইন অনুযায়ী, কেউ যদি জনসমক্ষে ইসরায়েলের টিকে থাকার অধিকার অস্বীকার করে বা রাষ্ট্রটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানায়, তবে তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ইসরায়েলকে এমন একটি আইনি সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে যা জার্মানি ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করেনি। বার্লিন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যার সময়ও তারা দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বর্ণবাদী ব্যবস্থা ও তীব্র জাতিগত নিধনযজ্ঞ সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

সংবিধান লঙ্ঘনের আশঙ্কা

বুন্দেসতাগের নিজস্ব গবেষণা শাখা গত মে মাসে সম্পন্ন একটি মূল্যায়নে জানিয়েছে, এই আইনটি একটি নির্দিষ্ট মতামতের বিরুদ্ধে ‘বিশেষ অধিকার’ তৈরি করতে পারে এবং জার্মানির মৌলিক আইনের ৫ অনুচ্ছেদের অধীনে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের টিকে থাকার অধিকার প্রত্যাখ্যান এবং বিলুপ্তির আহ্বান উভয়ই ব্যক্তিগত মূল্যবোধের বিচার হিসেবে গণ্য হতে পারে। নাৎসি প্রচারণাকে প্রতিহত করার জন্য সংবিধানে যে সংকীর্ণ ব্যতিক্রমী সুযোগ রাখা হয়েছে, তা ইসরায়েল-সম্পর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করার যৌক্তিকতা প্রমাণ করা ‘কঠিন’ হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফিলিস্তিনপন্থি সক্রিয়তা দমন

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গত বছরের অক্টোবরে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, জার্মান কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে চালানো সক্রিয়তাকে ক্রমাগত দমন করছে। জাতিসংঘের চারজন বিশেষ দূত এবং দুজন স্বাধীন আইনি বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, জার্মানি ফিলিস্তিনের পক্ষে বৈধ সংহতি প্রকাশকে ‘অপরাধীকারণ, শাস্তি প্রদান এবং দমন’ করছে। তারা বলেন, বিক্ষোভকারীরা সম্পূর্ণ ‘বৈধ’ দাবি তুলে ধরছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলে অস্ত্র রফতানি বন্ধ করা, গণহত্যা ও ইসরায়েলি অবৈধ দখলদারত্বের অবসান ঘটানো, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

বিরোধিতা ও সমালোচনা

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ইহুদিদের জীবনের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই উদ্যোগটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে বিপন্ন করছে। লেফট পার্টির এমপি লুক হোস এই প্রস্তাবটিকে একটি ‘স্পষ্টত অসাংবিধানিক’ প্রতীকী রাজনীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এই পদক্ষেপ ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে বরং দুর্বল করে তুলবে।