দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা, পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগে চার পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন– সাবেক শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আফজালুন নেছা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাবেক ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, জামালপুর) মিশু বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাবেক র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ) জুয়েল চাকমা এবং টেলিকম অফিসার (এএসপি) মো. মাহমুদুল হাসান।
আফজালুন নেছার বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৩৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা আফজালুন নেছা ২০১৭ সালে ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশ নিলেও পরে মৌলিক প্রশিক্ষণে যোগ দেননি। ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি। এরপর ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সঙ্গে মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হলেও তিনি যোগদান না করে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
মিশু বিশ্বাসের ঘটনা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাস ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘আয়রনম্যান ৭০.৩’ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ১০ দিনের ছুটি নিয়ে বিদেশে যান। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফিরে তিনি দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকেন। একাধিক নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি যোগদান করেননি। তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জুয়েল চাকমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
র্যাব-১৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা ২০২৫ সালের এপ্রিলে ছুটি শেষে কর্মস্থলে আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়।
মাহমুদুল হাসানের ঘটনা
এদিকে পুলিশ টেলিকম সংস্থার টেলিকম অফিসার (এএসপি) মো. মাহমুদুল হাসান ২০২৪ সালের আগস্টে ওমরাহ পালনের জন্য ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে সৌদি আরব যান। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর ফেরেননি। দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিভাগীয় কার্যক্রমের বিস্তারিত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্ব, প্রাসঙ্গিক নথিপত্র এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ পর্যালোচনার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।



