মৃত্যু ও জানাজা
সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিক মোশারফ হোসেন মিয়া শনিবার (২০ জুন) রাত ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।
মোশারফ হোসেন মিয়ার জানাজা রোববার (২১ জুন) আসরের নামাজের পর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রাজনৈতিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
মরহুমের পারিবারিক সদস্য ও লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রিপন পাটোয়ারী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে মোশারফ হোসেন মিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অন্যতম সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হাতিয়া-রামগতি অঞ্চলের জোনাল কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখেন।
শোক প্রকাশ
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, "মোশারফ হোসেন মিয়ার মৃত্যুতে আমরা একজন দেশপ্রেমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিভাবককে হারালাম। মুক্তিযুদ্ধে এবং রামগতি-কমলনগর অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।



