বিশ্ব যোগ ব্যায়াম দিবস: সুস্থ বার্ধক্যের লক্ষ্যে আজকের প্রতিপাদ্য
বিশ্ব যোগ ব্যায়াম দিবস: সুস্থ বার্ধক্যের লক্ষ্যে আজকের প্রতিপাদ্য

সুস্থ শরীর, প্রশান্ত মন ও দীর্ঘায়ুর বার্তা নিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব যোগ ব্যায়াম দিবস। হাজার বছরের প্রাচীন এই অনুশীলন বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক চাপ কমানো এবং সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর ২১ জুন দিবসটি উদযাপন করা হয়।

এবারের প্রতিপাদ্য: ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’

এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’, যা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সুস্থতা ও সক্রিয়তা ধরে রাখার বার্তা দিচ্ছে। এতে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাধীন জীবনযাপন বজায় রাখতে যোগব্যায়ামের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে শুরু হলো বিশ্ব যোগব্যায়াম দিবস

যোগব্যায়াম হাজার বছরের প্রাচীন একটি শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক অনুশীলন, যার উৎপত্তি ভারতীয় উপমহাদেশে। বিশ্বব্যাপী এর জনপ্রিয়তা ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা বিবেচনায় ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ জুনকে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ভারত সরকারের প্রস্তাবে ১৭৫টিরও বেশি সদস্য রাষ্ট্র এ উদ্যোগকে সমর্থন করে। এরপর ২০১৫ সালের ২১ জুন প্রথমবারের মতো বিশ্ব যোগ ব্যায়াম দিবস পালিত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন ২১ জুন?

২১ জুন উত্তর গোলার্ধের বছরের দীর্ঘতম দিন বা ‘সামার সলসটিস’। প্রকৃতি ও মানবজীবনের ভারসাম্যের প্রতীক হিসেবে এই দিনটিকেই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের জন্য বেছে নেওয়া হয়।

যোগব্যায়ামের উপকারিতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগব্যায়াম শরীর ও মনের ওপর বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শারীরিক উপকারিতা

  • শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে।
  • পেশি ও হাড়কে শক্তিশালী করে।
  • ভারসাম্য ও চলাফেরার সক্ষমতা উন্নত করে।
  • উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
  • শ্বাস-প্রশ্বাসের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
  • দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।

মানসিক উপকারিতা

  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়।
  • মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
  • বিষণ্নতা মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
  • ঘুমের মান উন্নত করে।
  • আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিতি বৃদ্ধি করে।

বার্ধক্যে বিশেষ উপকারিতা

এ বছরের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত যোগব্যায়াম বয়স্কদের ভারসাম্য রক্ষা, পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো, পেশির শক্তি বজায় রাখা এবং মানসিক সুস্থতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কেন প্রয়োজন যোগব্যায়াম

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন ও মানসিক চাপ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে যোগব্যায়াম একটি সহজ, স্বল্পব্যয়ী এবং কার্যকর স্বাস্থ্যচর্চা হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম ঝুঁকির কারণ। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি যোগব্যায়াম স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলে যোগব্যায়াম চর্চা করা হয়। প্রতিবছর বিশ্ব যোগ ব্যায়াম দিবসে লাখো মানুষ উন্মুক্ত স্থানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে একযোগে যোগব্যায়ামে অংশ নেন। স্বাস্থ্য, শান্তি ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বায়নের এ যুগে যোগব্যায়াম শুধু একটি শরীরচর্চা নয়, বরং সুস্থ, সচেতন ও সুষম জীবন গঠনের একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব যোগ ব্যায়াম দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—সুস্থ শরীর, প্রশান্ত মন এবং দীর্ঘায়ুর জন্য নিয়মিত যোগচর্চার বিকল্প নেই।

সূত্র: ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬’ সংক্রান্ত জাতিসংঘের প্রকাশিত তথ্য।