বিশ্বের সবচেয়ে কম বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয় হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীকে এই অবস্থা থেকে বের করে আনতে পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নির্বিচারে শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রবণতা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান এখন তৃতীয়। এ পরিস্থিতি থেকে রাজধানীকে বের করে আনা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, সভ্য দেশে যেভাবে পরিকল্পনাহীনভাবে যত্রতত্র কলকারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো পরিবেশ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নন। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্পৃক্ত করতে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
বৃক্ষরোপণ লক্ষ্য ও পরিবেশ সচেতনতা
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, কোন পরিবেশে কোন ধরনের গাছ উপযোগী—সেই বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। এ সময় তিনি ইউক্যালিপটাসের মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছ রোপণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
পরিবেশ পদক ও পুরস্কার
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিবেশ পদক দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের জন্য সাতটি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনকে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বসবাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকার অবস্থান
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৬ সালের বসবাসযোগ্যতা সূচকে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে সবচেয়ে কম বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। এর আগের বছর ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী।



