গণতন্ত্রের সাফল্য সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল: মির্জা ফখরুল
গণতন্ত্রের সাফল্য সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের সাফল্য সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে। তাঁর মতে, কোনো দেশের সংবাদমাধ্যম শক্ত হলে সে দেশের গণতন্ত্রও শক্তিশালী হয়। আজ শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে

সাংবাদিকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবেন, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা খারাপ কাজ করবেন, তাঁদের সমালোচনা করবেন। যাঁরা ভালো কাজ করবেন, তাঁদের বাহবা দেবেন। মিডিয়া যদি শক্ত হয়, সে দেশের গণতন্ত্রও শক্ত হয়। গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে মিডিয়ার সাফল্যের ওপর।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাঁরা রাজনীতি করি, তাঁরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করি। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। রাজনীতিবিদেরা যে সমালোচনার ঊর্ধ্বে, তা নয়। রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করাই সাংবাদিকদের উপযুক্ত কাজ। ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া, গাইড করা খুবই জরুরি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে সাংবাদিকেরা নিগৃহীত হন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সমালোচনা

বিকেলে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। সেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে সরিয়েছি। কিন্তু আমাদের সামনে এখন এসে দাঁড়িয়েছে আরেকটি শক্তি, যে শক্তিটা হলো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল; যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে নাই, দেশের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোটব্যাংকে হাত দিয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কোনো গণতান্ত্রিক দল নয়। তাদের একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে, সেই লক্ষ্যে তারা পৌঁছাতে চায়। অন্যথা তারা এখানে শরিয়াহভিত্তিক একটা ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেটা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যায় না। বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থী রাজনীতি করতে চায়। তারা ধর্মভীরু, ধর্মে বিশ্বাস করে, তবে ধর্মান্ধ নয়। আজ বিভিন্ন কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা (জামায়াতে ইসলামী) যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী বলার চেষ্টা করছে, আমরা নাকি জুলাই সনদ মানি না। আমরা নাকি গণভোটের রায়কে বাদ দিয়ে দিয়েছি। জুলাই সনদের প্রতিটি পাতায় যে কথাগুলো লেখা আছে, সেখানে পরিষ্কার করে বলা আছে, এটা এই রাজনৈতিক দল মেনেছে, এটা এই রাজনৈতিক দল মানেনি। যারা নির্বাচনে জয়ী হবে, সেই দলের ইশতেহারে যা থাকবে, সেই দলের ইশতেহারের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পালিত হবে। ম্যান্ডেট আমরা পেয়েছি, ইশতেহারে আমরা যেটা বলেছি, সেটাই পূরণ করতে চাই। প্রতিটি জায়গায়, প্রতিটি কথায় আমরা জুলাই সনদকে মেনে চলছি।’

সংবিধান সংশোধন ও নেতা-কর্মীদের প্রতি বার্তা

সংবিধান সংশোধনে ১১–দলীয় জোটের দাবি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সংসদে বলেছি যে সংবিধান সংশোধনে সংসদ কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে আপনারা আসুন। যে জায়গাগুলো পরিবর্তন করতে হবে, তা আলাপ–আলোচনা করে পরিবর্তন করি। কিন্তু তারা সেখানে না গিয়ে ১১ দল নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। তাদের দাবির পক্ষে জনগণের সমর্থন নেই।’

দলের নেতা–কর্মীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে হতাশা যেন না আসে। আমরা কখনো পরাজিত হইনি, পরাজিত হবও না।’

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম, আবু তাহের, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।