ইংল্যান্ড ফুটবল দল মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ঘুম ও বিশ্রাম নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। মেক্সিকোর সমর্থকরা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলোয়াড়দের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইকুয়েডরের অভিযোগ থেকে শিক্ষা
এই ভয়ের根源 ফিফার কাছে ইকুয়েডর দলের অভিযোগ। বিবিসি জানিয়েছে, মেক্সিকোর কিছু সমর্থক গভীর রাতে ইকুয়েডর দলের হোটেলের বাইরে লাউডস্পিকার, হর্ন ও মোটরসাইকেল ব্যবহার করে তাদের জাগিয়ে রেখেছিল। ইকুয়েডর মেক্সিকো সিটির ওয়েস্টিন হোটেলে অবস্থান করছিল।
ইংল্যান্ড দল তাদের হোটেলের নাম গোপন রাখতে চায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবস্থান ফাঁস হয়ে যেতে পারে—এমন শঙ্কা দলের ভেতরে আছে, বলেও জানিয়েছে বিবিসি।
বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ
ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাঁরা নিজস্ব ঘুমের সরঞ্জাম যেমন ইয়ার প্লাগ বা স্লিপ ব্যান্ড নিয়ে যাননি, তাঁদের প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ বা ‘হোয়াইট নয়েজ’ অডিও মেশিন দেওয়া হবে।
আগের ম্যাচগুলোর ভেন্যুতে ইংল্যান্ড দল পৌঁছাত ম্যাচের আগের রাতে, আর অনুশীলন করত কানসাসে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট ম্যাচের আগের দিন একটি আংশিক উন্মুক্ত অনুশীলন সেশন করতে হবে। এবার সেই সুযোগ নেই, কারণ হ্যারি কেইনের দল এই প্রথম মেক্সিকোতে খেলতে যাচ্ছে।
উচ্চতার চ্যালেঞ্জ
মেক্সিকো সিটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে প্রায় ২,২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত, যার অর্থ সেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ কম। এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে না নিলে তা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল বলেন, 'উচ্চতা আমাদের জন্য একটি বড় অসুবিধা হবে; কারণ, আমরা শারীরিকভাবে এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছি না। চার দিনের মধ্যে এটি করা একেবারেই অসম্ভব। আরও অনেক বাধা আসতে পারে, তবে আমরা সেগুলোর জন্য প্রস্তুত।'
মেক্সিকোর সুবিধা
মেক্সিকোর অবশ্য এত ভাবনা নেই। বিশ্বকাপে তাদের আগের চারটি ম্যাচই এমন পরিবেশে খেলেছে। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ ছিল মেক্সিকো সিটির অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে, আর অন্যটি গুয়াদালাহারায়, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ১,৫৬৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত।
টুখেল স্বীকার করেন, 'আমি যত দূর বুঝি, আমরা এই উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব না। মেক্সিকোর জন্য একটি বিশাল সুবিধা হবে। এর জন্য অনেক সময় লাগে। ম্যাচের মাঝে আমরা মাত্র তিন দিন সময় পাচ্ছি।'



