বোস্টনে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটনটি ঘটেছে। জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে প্যারাগুয়ে। ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের আনন্দাশ্রু মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী আসুনসিওনের রাস্তায়। বার্তা সংস্থা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ফুটে ওঠে আনন্দ, বিহ্বলতা, বিস্ময় ও অবিশ্বাস।
ম্যাচের বিবরণ ও প্রেক্ষাপট
ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আধিপত্য বিস্তার করে খেলে জার্মানি, কিন্তু গোল করতে ব্যর্থ হয়। এর আগে গ্রুপ পর্বে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা দুর্বল কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলে জিতলেও শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে যায়। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়।
খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার গুস্তাভ গোমেজ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সতীর্থদের নিয়ে, পুরো দলকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। আমাদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকা প্রাপ্য ছিল। আমরা দল হিসেবে অসাধারণভাবে একতাবদ্ধ এবং মানসিকভাবে খুব শক্তিশালী।’ তিনি এই জয় প্যারাগুয়ের জনগণকে উৎসর্গ করে বলেন, ‘আজকের ম্যাচে আমাদের দেখাতে হতো, প্যারাগুয়ে দল আসলে কী দিয়ে গড়া। জার্মানি জানত, তাদের জন্য ম্যাচটি সহজ হবে না। তারা জানত, আমরা হার এড়াতে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। এই লড়াই আর ফল আমরা প্যারাগুয়ের সব মানুষের জন্য উৎসর্গ করছি।’
জার্মানির হতাশা
অন্যদিকে বেদনাদায়ক বিদায়ের পর জার্মান তারকা কাই হাভার্টজ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমার তেমন কিছুই বলার নেই। এটি আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ, আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো আমরা পরের পর্বে উঠতে পারলাম না। এ জন্য আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আমরা সবাই ভীষণ হতাশ। এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা ছিল। আবারও সমর্থকদের হতাশ করতে হলো, যা খুবই কষ্টের। তবে দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’ কেন এমন ফল, সে প্রশ্নে হাভার্টজ বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিটি মুহূর্তে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে হয়। আমার মনে হয় না, আমরা খারাপ ফুটবল খেলেছি। কিন্তু প্রতিবারই যেন কোথাও না কোথাও কিছু একটা কমতি থেকে গেছে, আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমরা বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল দেশের প্রতিনিধিত্ব করি। এমন অবস্থায় যদি শুরুতেই বিদায় নিতে হয়, তাহলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার যোগ্যতা আমাদের ছিল না।’
পরিসংখ্যান ও ইতিহাস
স্কটল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার প্যাট নেভিনের ভাষায় এটি প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি। প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারানোর স্বাদ পেয়েছে প্যারাগুয়ে। এই জয়ের পর শেষ ষোলোয় লাতিন দেশটির প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে পরবর্তী ড্রয়ে।



