২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি জানান, এ বছর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২.৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা
প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর ছাড়া অন্যান্য খাত থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, 'কর আদায়ের হার বাড়ানোর জন্য আমরা বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি।'
ব্যয় বরাদ্দ
মোট ব্যয়ের মধ্যে চলতি ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৮৫ হাজার কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৪২ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
অর্থমন্ত্রী জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা খাদ্য ও জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছি।' বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার ৬.৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৬.৭৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'সঠিক নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হব।'
সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া
বাজেট প্রস্তাবনার পর বিরোধী দল বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য কোনো স্বস্তি বয়ে আনবে না। তবে সরকারি দলের সদস্যরা বাজেটকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করেছেন।



