ঢাকার ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন এলাকায় মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা দোকান উচ্ছেদের সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে এ হামলায় উচ্ছেদে ব্যবহৃত বুলডোজারের চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতদের পরিচয় ও চিকিৎসা
আহত ব্যক্তিরা হলেন বুলডোজারের চালক মনির হোসেন (৪০), কার্যসহকারী আব্বাস উদ্দিন (৩৫) ও সওজের শ্রমিক সোহাগ হোসেন (৩৫)। মনির হোসেনের মাথার দুটি স্থানে কেটে যাওয়ায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
উচ্ছেদ অভিযানের বিবরণ
সওজের নয়ারহাট উপবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আজ দুপুরে ধামরাই উপজেলার ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে ওঠা দোকান উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। ধামরাই উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সওজ এ অভিযান পরিচালনা করে।
হামলার ঘটনা
অভিযানের এক পর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত বুলডোজারের ওপর হামলা চালান। তারা বুলডোজারের চালককে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা ছুঁড়তে থাকেন। ইটপাটকেলের আঘাতে বুলডোজারের চালক মনির হোসেন, কার্যসহকারী আব্বাস উদ্দিন ও সওজের শ্রমিক সোহাগ হোসেন আহত হন। পরে ধামরাই থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার পর উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সওজের নয়ারহাট উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, 'সড়কের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হলে যানজটের সৃষ্টি হয়, পথচারীদের চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং ভোগান্তি বাড়ে। জনদুর্ভোগ কমাতে ও সড়কের জায়গা দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিতভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালান। তাদের আচরণ অনেকটা মবের মতো ছিল।'
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদওয়ান আহমেদ (রাফি) বলেন, এই হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কারও ইন্ধন রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে নিয়মিত মামলা করা হবে। আগামীকাল বুধবার আবার এ অভিযান চালানো হবে।



