ঢাকার রুশ হাউসে দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে 'স্মৃতি ও শোক দিবস' পালিত হয়েছে। ২২ জুন, ১৯৪১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে নাজি জার্মানির আক্রমণের ৮৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত লক্ষ লক্ষ মানুষের স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়।
২১ জুনের স্মরণানুষ্ঠান
২১ জুন স্মরণানুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয় এই কর্মসূচি। এতে অংশগ্রহণ করেন শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (এসএএবি) এর সদস্য, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে যুদ্ধকালীন দুর্ভোগ ও সাহসিকতা নিয়ে পাঠ, সঙ্গীত ও পরিবেশনা পরিবেশিত হয়।
'মোমবাতির স্মৃতি' অনুষ্ঠান
অংশগ্রহণকারীরা 'মোমবাতির স্মৃতি' অনুষ্ঠানে যোগ দেন, যেখানে যুদ্ধে নিহত সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি নীরব শ্রদ্ধা জানিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। এছাড়াও '২২.০৬.১৯৪১. ট্র্যাজেডি। সাহস। কীর্তি' শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর ওপর ভিত্তি করে বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রদর্শনীটি মিউজিয়াম অব ভিক্টরি দ্বারা কিউরেট করা হয়েছিল, যা নাজি আক্রমণের প্রথম দিনের ঘটনা এবং প্রাথমিক সোভিয়েত প্রতিরোধকে তুলে ধরে।
২৩ জুন তেজগাঁও কলেজে অনুষ্ঠান
২৩ জুন বাংলাদেশে রুশ কম্প্যাট্রিয়টস অ্যাসোসিয়েশন 'রডিনা'-এর সহযোগিতায় তেজগাঁও কলেজে আরেকটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যুদ্ধের মানবিক ক্ষতি এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা
সেশনে 'ব্রেস্ট ফোর্ট্রেস' চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়, যা যুদ্ধের প্রথম দিকে ব্রেস্ট দুর্গের প্রতিরক্ষা চিত্রিত করে। এরপর ২২ জুন, ১৯৪১ সালের একই প্রদর্শনীর ওপর ভিত্তি করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
'স্মৃতির প্রাচীর' নির্মাণ
শিক্ষার্থীরা কাগজের সারস পাখি ব্যবহার করে 'স্মৃতির প্রাচীর' তৈরি করে, যা যুদ্ধের শিকারদের প্রতি প্রতীকী শ্রদ্ধা নিবেদন।
শান্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার আহ্বান
কর্মসূচিগুলো ঐতিহাসিক স্মৃতি ধরে রাখা এবং শান্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া প্রচারের আহ্বানের মাধ্যমে শেষ হয়। রুশ হাউসের প্রতিনিধিরা বলেন, 'এই ধরনের অনুষ্ঠান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং শান্তির গুরুত্ব বোঝায়।'



