আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় চ্যালেঞ্জের চিঠিকে 'আদালত অবমাননা' বললেন প্রধান প্রসিকিউটর
ট্রাইব্যুনালের রায় চ্যালেঞ্জের চিঠিকে 'আদালত অবমাননা' বললেন প্রধান প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় চ্যালেঞ্জের চিঠিকে 'আদালত অবমাননা' বললেন প্রধান প্রসিকিউটর

প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম লন্ডন থেকে আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) পাঠানো একটি চিঠিকে আদালত অবমাননা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে এমন চিঠি জমা দেওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই।

চিঠির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, লন্ডন থেকে কিংসলি নেপলি নামক আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠানো এই চিঠিটি ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমকে দুর্বল করতে এবং সন্দেহের সৃষ্টি করতে লেখা হয়েছে। তিনি বলেন, "দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে। আসামি অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চিঠি জমা দিয়ে রায় চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ আইনে নেই।"

চিঠি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই

প্রধান প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বা প্রধান প্রসিকিউটর অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে কিংসলি নেপলি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন কোনো চিঠি পাননি। তিনি বলেন, মিডিয়া প্রতিবেদনের মাধ্যমেই তারা এই বিষয়ে জানতে পেরেছেন। গত ৩০ মার্চ ইমেইলের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে এই চিঠি পাঠানো হয় বলে জানা গেছে, যেখানে শেখ হাসিনার পক্ষে মৃত্যুদণ্ড রদ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিঠির মূল দাবি ও আইনি অবস্থান

চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড প্রদান আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। এটিকে অসাধু ও অবৈধ কার্যক্রম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আইনি প্রতিষ্ঠানটি ১৪ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি উত্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকালীন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। বিচারকালে তিনি অনুপস্থিত থাকায় ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে প্রতিরক্ষা আইনজীবী নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, এমন রায় বহাল রাখা বা রদ করার এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রয়েছে।