হামের প্রকোপ বৃদ্ধিতে টিকাদান নিয়ম পরিবর্তন: প্রথম ডোজ এখন ছয় মাস বয়সে
হামের টিকা নিয়ম পরিবর্তন: প্রথম ডোজ ছয় মাস বয়সে

হামের প্রকোপ বৃদ্ধিতে টিকাদান নিয়মে পরিবর্তন: প্রথম ডোজ এখন ছয় মাস বয়সে

দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার টিকাদান কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রথম হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা ৯ মাসের পরিবর্তে ছয় মাস বয়সেই দেওয়া হবে। এই পরিবর্তনটি বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে, যেখানে গত কয়েক দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামের প্রকোপ ও উদ্বেগের কারণ

দেশের বেশ কিছু জেলায় হঠাৎ করেই হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ব্যাপক ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগটি শিশুদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, অভিভাবক এবং প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্দিষ্ট সময়ে টিকা দেওয়া, তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের বয়স অনুযায়ী টিকা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন।

টিকাদানের নতুন নিয়ম ও গুরুত্ব

সাধারণত, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী, প্রথম এমআর টিকা ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান সংকটের মুখে প্রথম ডোজের বয়স ছয় মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই দুই ডোজ টিকা শিশুদের হাম থেকে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করে। প্রথম ডোজে বেশিরভাগ শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ না হওয়ায় দ্বিতীয় ডোজ দিলে প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশের ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ দুই ডোজ এমআর টিকা নিয়েছে, যা তাদের প্রায় সারাজীবনের জন্য হামের সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখে। টিকা না নিলে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই টিকা দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর, ফুসকুড়ি, নিউমোনিয়ার মতো জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসকদের সতর্কতা ও সরকারের পদক্ষেপ

চিকিৎসকরা টিকা দেওয়ার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ কিছু শিশু টিকার পর জ্বর বা গুরুতর অসুস্থতা অনুভব করতে পারে। তাই হামের টিকা দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন যে, খুব দ্রুতই হামের টিকা সংগ্রহ করে তা বিতরণ শুরু করা হবে এবং জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই পদক্ষেপগুলি শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে যখন দেশের ৭০ হাজার শিশু এখনও কোনো টিকা পায়নি বলে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সময়মতো টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।