প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অধস্তন আদালত তদারকিতে হাইকোর্টের আট কমিটি পুনর্গঠন
অধস্তন আদালত তদারকিতে হাইকোর্টের আট কমিটি পুনর্গঠন

সুপ্রিম কোর্টের আট বিভাগের প্রতিটিতে অধস্তন আদালতের কার্যক্রম তদারকির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতিকে দায়িত্ব দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। পাশাপাশি প্রতিটি কমিটির বিচারপতিকে সাচিবিক সহায়তার জন্য বিচার বিভাগীয় ১৩ কর্মকর্তাকে (সুপ্রিম কোর্টে প্রেষণে কর্মরত) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তির বিবরণ

১৯৭৩ সালের হাইকোর্ট বিভাগের রুলস অনুযায়ী ‘মনিটরিং কমিটি ফর সাব-অর্ডিনেট কোর্টস’ পুনর্গঠন–সংক্রান্ত ওই বিজ্ঞপ্তি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির আদেশ অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মুহাম্মদ শরিফুর রহমান এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

এর আগে আট বিভাগের প্রতিটিতে অধস্তন আদালতের কার্যক্রম তদারকিতে পৃথক আটটি কমিটি (মনিটরিং কমিটি ফর সাব-অর্ডিনেট কোর্টস) গঠনের তথ্য ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ৮ থেকে বাড়িয়ে পৃথক ১৩টি কমিটি (মনিটরিং কমিটি ফর সাব-অর্ডিনেট কোর্টস) গঠন করা হয় বলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটির তথ্যমতে, এর পর থেকে পৃথক মনিটরিং কমিটির কার্যক্রম চলে আসছে। সম্প্রতি হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি অবসর গ্রহণ করেছেন, যিনি একটি মনিটরিং কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। এরপর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কমিটির দায়িত্ব বণ্টন

মনিটরিং কমিটির কে কোন বিভাগের দায়িত্বে— কমিটির জন্য মনোনীত বিচারপতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলাগুলোর নাম এবং সাচিবিক সহায়তা প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম ও পদবি মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠন–সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এতে দেখা যায়:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনকে বরিশাল বিভাগের (বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা জেলা) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে রাজশাহী-২ বিভাগের (বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • বিচারপতি জে বি এম হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা-১ বিভাগের (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল) দায়িত্ব।
  • বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়াকে খুলনা-১ বিভাগের জন্য মনোনীত করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • বিচারপতি মো. জাফর আহমেদকে খুলনা-২ বিভাগের (কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা জেলা) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলকে দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগের (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা) দায়িত্ব।
  • বিচারপতি ফাতেমা নজীবকে ঢাকা-২ বিভাগের (কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • চট্টগ্রাম-১ বিভাগের (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানকে।
  • বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারকে রংপুর-১ বিভাগের (রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • চট্টগ্রাম-২ বিভাগের জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেলকে মনোনীত করে বিভাগটির নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলার অধস্তন আদালত তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরকে রাজশাহী-১ বিভাগের (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমকে রংপুর-২ বিভাগের (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • আর সিলেট বিভাগের (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলা) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহকে।