নিয়মিত চোখ পরীক্ষা: অন্ধত্ব প্রতিরোধে জরুরি
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা: অন্ধত্ব প্রতিরোধে জরুরি

নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চোখের কিছু রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। উদাহরণস্বরূপ, গ্লুকোমা ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে, কিন্তু প্রথম দিকে সাধারণত ব্যথা বা অসুবিধা অনুভূত হয় না। তাই নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়া এই রোগ শনাক্ত করা কঠিন।

চশমার প্রয়োজনীয়তা ও দৃষ্টি পরিবর্তন

ছোটবেলা থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত যেকোনো সময় দৃষ্টিশক্তি পরিবর্তন হতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষা না করলে ছোটখাটো দৃষ্টি সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। চশমা ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি পরিবর্তন হলে সময়মতো চশমা বা লেন্স পরিবর্তন করলে চোখের ক্লান্তি ও মাথাব্যথা কমানো সম্ভব।

শিশুদের চোখ পরীক্ষা

পড়াশোনার সময় হ্রস্ব দৃষ্টির সমস্যা শিশুর শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিশুদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো বিশেষভাবে জরুরি। জন্মের পর প্রথম পরীক্ষা করতে হবে, তারপর ৬ থেকে ১২ মাসে একবার, ৩ থেকে ৫ বছর বয়সে স্কুলগামী শিশুদের পুনঃপরীক্ষা এবং স্কুলজীবনে প্রতিবছর একবার চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বয়সজনিত সমস্যা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাটার্যাক্ট (ছানি), ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং গ্লুকোমার মতো সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত পরীক্ষায় এসব রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা যায় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।

দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রভাব

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ চোখে প্রভাব ফেলে। এসব রোগীদের রেটিনা বছরে অন্তত একবার বা দুবার পরীক্ষা করা জরুরি। নিয়মিত পরীক্ষায় ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বা হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। মনে রাখবেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ অন্ধত্বের অন্যতম কারণ।

কত দিন পরপর চোখ পরীক্ষা করাবেন

শিশুদের জন্য: জন্মের পর প্রথম পরীক্ষা, ৬ থেকে ১২ মাসে একবার, ৩ থেকে ৫ বছর বয়সে স্কুলগামী শিশুদের পুনঃপরীক্ষা এবং স্কুলজীবনে প্রতিবছর একবার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের ২ থেকে ৩ বছরে একবার; ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের ১ থেকে ২ বছরে একবার; ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের বছরে একবার।

এছাড়া ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, রেটিনোপ্যাথি বা গ্লুকোমা দেখা দিলে, চোখে নিয়মিত লালচে ভাব, ঝাপসা বা ক্লান্তি অনুভূত হলে, বা পরিবারে চোখের জটিল রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো আরও ঘন ঘন চোখ পরীক্ষা করাতে হবে।

অধ্যাপক ডা. ইফতেখার মো. মুনির, গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালক, বাংলাদেশ আই হাসপাতাল লিমিটেড, মালিবাগ মোড়, ঢাকা।